মো.এনামুল হক,স্টাফ রিপোর্টার:: মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শনবিার (২১’শে ফেবরুয়ারি ২০২৬) খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার পিঠাছড়ায় ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগে অস্থায়ী শহীদ মিনারে ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।
স্থানীয় তরুণদের সৃজনশীল উদ্যোগে নির্মিত এই শহীদ মিনারটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপকরণ বাঁশ, বাঁশের কঞ্চি ও কলাপাতা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য যে ফুল ব্যবহার করা হয়েছে, সেটিও প্রকৃতি থেকে সংগ্রহ করা হয়। ব্যতিক্রমধর্মী এ আয়োজন স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
বাঁশ ও কলাপাতা দিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের সৃজনশীল ভাবনা দেন জন মহম্মদ, পিয়াল পিউ, প্রিয় মনি চাকমা, নুর আলম, চিশুনা ত্রিপুরা ও কৃত্তি রঞ্জন ত্রিপুরা। তাদের উদ্যোগে স্বল্প ব্যয়ে ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে নির্মিত এই শহীদ মিনার সকলের প্রশংসা কুড়ায়।
এ আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল পিঠাছড়া পাঠাগার। সংগঠনটির সভাপতি মাহফুজ রাসেল ও সাধারণ সম্পাদক কাঞ্চনমালা ত্রিপুরা জানান, ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকেই এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সীমিত সামর্থ্য ও দুর্গম পাহাড়ি পরিবেশের মধ্যেও তরুণদের অংশগ্রহণে প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ তাদের দেশপ্রেম, সৃজনশীলতা ও সচেতনতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তারা বলেন, নতুন প্রজন্মের মাঝে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও চেতনা ছড়িয়ে দিতে পাঠাগারটি নিয়মিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। শহীদ দিবসকে সামনে রেখে পরিবেশবান্ধব উপায়ে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ ছিল সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। ভবিষ্যতেও ভাষা শহিদদের স্মরণে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশপ্রেম জাগ্রত রাখতে এমন ব্যতিক্রমী ও সৃজনশীল আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, পিঠাছড়া পাঠাগারের পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ি জনপদে স্বাস্থ্যসেবার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে পিটাছড়া চিকিৎসা কেন্দ্র। স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে এ ধরনের উদ্যোগ এলাকার সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।



অনলাইনের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন