চট্টগ্রাম বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

সীমান্ত সড়কে পৌনে ৪ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প

  • প্রতিবেদক
  • আপডেট : ০৮:১৫:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • ৫৩ বার
৪৪

স্টাফ রিপোর্টার:: পার্বত্য জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করতে প্রায় ৩ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের দুর্গম এলাকায় ২৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প—২য় পর্যায়’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

আজ সোমবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উঠছে। প্রকল্পের মূল কাঠামো পরিকল্পনা কমিশনের তথ্যমতে, সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। ২০৩০ সালের জুন নাগাদ কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত সড়কগুলো হলো:
– খাগড়াছড়ি: নাড়াইছড়ি–লক্ষ্যাছড়া (৩৫ কিমি)
– রাঙামাটি: বৈরাগীপাড়া–বেতলিং (৪৬ কিমি), মাঝিপাড়া–ঘাসকাপাছড়া (২৫ কিমি), কারলাছড়া–বড়করদিয়া (২৮ কিমি), থালীপাড়া–ছাইথাংপাড়া (৪৬ কিমি)
– বান্দরবান: ফাতরাজিরা–লিকরি (১০৮ কিমি)

ব্যয়ের খাতসমূহ
– ২৭২ কিমি ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট: প্রায় ১,৫৮৩ কোটি টাকা
– ১৪ কিমি রিজিড পেভমেন্ট: প্রায় ১০৭ কোটি টাকা
– ৪৫০ কিমি সাইড ড্রেন: প্রায় ৬৯৩ কোটি টাকা
– মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ: প্রায় ১৫০ কোটি টাকা
– জমি অধিগ্রহণ: ৮৫ কোটি টাকা
– পরামর্শক সেবা: প্রায় ৪৭ কোটি টাকা
– ৫টি ক্যাম্প: ১৩ কোটি টাকা
– ২টি ডাকবাংলো: ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা
– ৩৬টি সামাজিক অবকাঠামো (স্কুল, হাসপাতাল, বিশ্রামাগার): ১৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা
এ ছাড়া ব্রিজ, কালভার্ট, হেলিপ্যাড, সাইন পোস্ট ও বনায়নসহ মোট ২২টি খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে।

সম্ভাব্য সুফল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে—
– সীমান্ত এলাকায় প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে
– কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ সহজ হবে
– পর্যটন খাতের বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় যোগাযোগ উন্নয়ন দেশের সার্বিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করা গেলে কৃষি ও পর্যটন খাত আরও বিকশিত হবে।”

প্রথম পর্যায়ের অভিজ্ঞতা এর আগে প্রথম পর্যায়ে ৩১৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়েছিল, যার কাজ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের জুনে। উল্লেখযোগ্য অংশ হলো বান্দরবানের কেওক্রাডং পর্বতশৃঙ্গের ওপর দিয়ে নির্মিত সড়ক, যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সড়ক হিসেবে স্থান পেতে যাচ্ছে (উচ্চতা ৯৬৫ মিটার)।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দ্বিতীয় পর্যায়ের পর তৃতীয় পর্যায়ে ভারত অংশে ২৮৪ কিমি এবং মিয়ানমার অংশে ৫২ কিমি সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, সঙ্গে থাকবে ৪১ কিমি সংযোগ সড়ক। এই প্রকল্প শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা নয়, বরং কৃষি, পর্যটন ও স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Download Photocard

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Al- Mamun

সীমান্ত সড়কে পৌনে ৪ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প

আপডেট : ০৮:১৫:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
৪৪

স্টাফ রিপোর্টার:: পার্বত্য জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করতে প্রায় ৩ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের দুর্গম এলাকায় ২৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প—২য় পর্যায়’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

আজ সোমবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উঠছে। প্রকল্পের মূল কাঠামো পরিকল্পনা কমিশনের তথ্যমতে, সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। ২০৩০ সালের জুন নাগাদ কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত সড়কগুলো হলো:
– খাগড়াছড়ি: নাড়াইছড়ি–লক্ষ্যাছড়া (৩৫ কিমি)
– রাঙামাটি: বৈরাগীপাড়া–বেতলিং (৪৬ কিমি), মাঝিপাড়া–ঘাসকাপাছড়া (২৫ কিমি), কারলাছড়া–বড়করদিয়া (২৮ কিমি), থালীপাড়া–ছাইথাংপাড়া (৪৬ কিমি)
– বান্দরবান: ফাতরাজিরা–লিকরি (১০৮ কিমি)

ব্যয়ের খাতসমূহ
– ২৭২ কিমি ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট: প্রায় ১,৫৮৩ কোটি টাকা
– ১৪ কিমি রিজিড পেভমেন্ট: প্রায় ১০৭ কোটি টাকা
– ৪৫০ কিমি সাইড ড্রেন: প্রায় ৬৯৩ কোটি টাকা
– মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ: প্রায় ১৫০ কোটি টাকা
– জমি অধিগ্রহণ: ৮৫ কোটি টাকা
– পরামর্শক সেবা: প্রায় ৪৭ কোটি টাকা
– ৫টি ক্যাম্প: ১৩ কোটি টাকা
– ২টি ডাকবাংলো: ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা
– ৩৬টি সামাজিক অবকাঠামো (স্কুল, হাসপাতাল, বিশ্রামাগার): ১৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা
এ ছাড়া ব্রিজ, কালভার্ট, হেলিপ্যাড, সাইন পোস্ট ও বনায়নসহ মোট ২২টি খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে।

সম্ভাব্য সুফল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে—
– সীমান্ত এলাকায় প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে
– কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ সহজ হবে
– পর্যটন খাতের বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় যোগাযোগ উন্নয়ন দেশের সার্বিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করা গেলে কৃষি ও পর্যটন খাত আরও বিকশিত হবে।”

প্রথম পর্যায়ের অভিজ্ঞতা এর আগে প্রথম পর্যায়ে ৩১৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়েছিল, যার কাজ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের জুনে। উল্লেখযোগ্য অংশ হলো বান্দরবানের কেওক্রাডং পর্বতশৃঙ্গের ওপর দিয়ে নির্মিত সড়ক, যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সড়ক হিসেবে স্থান পেতে যাচ্ছে (উচ্চতা ৯৬৫ মিটার)।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দ্বিতীয় পর্যায়ের পর তৃতীয় পর্যায়ে ভারত অংশে ২৮৪ কিমি এবং মিয়ানমার অংশে ৫২ কিমি সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, সঙ্গে থাকবে ৪১ কিমি সংযোগ সড়ক। এই প্রকল্প শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা নয়, বরং কৃষি, পর্যটন ও স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Download Photocard