চট্টগ্রাম শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

বাস-সিএনজি সংঘর্ষে ময়মনসিংহে ৭ জন নিহত

১০

স্টাফ রিপোর্টার:: ময়মনসিংহে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজনসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর সোয়া ১টার দিকে নগরের দাপুনিয়া হাড়গুজির পাড় এলাকায় রহমতপুর বাইপাস সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনায় নিহত সাতজনেরই পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। একই পরিবারের চারজন হলেন- জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের রাশিদা বেগম (৭০), তার ছেলে মোফাজ্জল হোসেন (৫০), মোফাজ্জলের মেয়ে মর্জিনা আক্তার (২৫) ও মর্জিনার ছেলে মিনান (৫)। তারা জামালপুর থেকে গাজীপুর যাচ্ছিলেন। মোফাজ্জল হোসেন সেখানে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।

নিহত অন্য তিনজন হলেন- জামালপুর সদর উপজেলার বীর গোবিন্দপুর গ্রামের আজর উদ্দিনের ছেলে অটোরিকশাচালক মো. সুজন আলী (৪৪) এবং একই উপজেলার বাদেচান্দি গ্রামের আকরাম আলী (৫১) ও তার স্ত্রী মমতা বেগম (৩৯)।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুর্ঘটনার পর নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরিচয় শনাক্তের পর পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ওসি শিবিরুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার পর বাসটি ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে পুলিশ বাসটি আটক করে। পুলিশের রেকার দিয়ে বাসটি জব্দ করে রাখা হয়েছে। তবে বাসের চালক ও সহকারীকে পাওয়া যায়নি। তারা বাস রেখে চলে গেছেন। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, সংঘর্ষে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে থাকা সাত যাত্রীর সবাই নিহত হন।

ফায়ার সার্ভিসের ময়মনসিংহ স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে জামালপুরগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাস ময়মনসিংহ বাইপাসগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে মুখোমুখি ধাক্কা দেয়।

পরে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয় লোকজন মিলে অটোরিকশার ভেতর থেকে নিহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন। এরপর তাদের মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। জুলহাস উদ্দিনের ধারণা, অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে।

দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মামুন হোসেন বলেন, জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় বিকট শব্দ শুনে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা দেখতে পান। স্থানীয় লোকজন বাসটি ঠেলে সরিয়ে অটোরিকশাটি বের করেন। পরে সেটির ভেতর থেকে নিহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করা হয়।

মামুন হোসেন আরও বলেন, এই সড়কে দিন দিন যানবাহনের চাপ বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনাও। দুর্ঘটনা কমাতে সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি চালক ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

Download Photocard

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Al- Mamun