দীঘিনালায় চিরকুট লিখে যুবকের আত্মহত্যা


বার্তা বিভাগ প্রকাশের সময় : জুন ২, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ /
দীঘিনালায় চিরকুট লিখে যুবকের আত্মহত্যা

স্টাফ রিপোর্টার:: খাগড়াছড়ি দীঘিনালায় বোয়ালখালী ইউনিয়ন এর উপজেলা বাবুপাড়া এলাকায় নিজ ঘর চিরকুট লিখে মো. হাসান (৩৫) নামে এক যুবকের আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি চিরকুটসহ ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করছে।

চিরকুট এ লেখা ছিল— “আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।” এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন ২০২৬) সকালে বোয়ালখালী ইউনিয়ন এর বাবুপাড়া ভাঙা বিল্ডিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত হাসান স্থানীয় ফজলুল হকের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে সোমবার রাতে হাসানের সঙ্গে তার স্ত্রীর ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান এবং হাসান বাড়িতে একাই অবস্থান করেন। পরদিন সকাল থেকে তাকে দেখতে না পেয়ে প্রতিবেশীরা ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে পাশের কক্ষের টিনের বেড়ার ফাঁক দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে তাকে ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। চিরকুটে নিজের মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী না করার কথা উল্লেখ ছিল।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, হাসান দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদক সেবন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অতীতে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগও করেছেন। কারামুক্ত হওয়ার পরও তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদকাসক্তিকে কেন্দ্র করে তার সংসারে প্রায়ই অশান্তি দেখা দিত।

নিহতের স্ত্রী খোদেজা বেগম জানান, স্বামীর মাদকাসক্তির কারণে সংসারে দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতা চলছিল। তিনি নিয়মিত আয়-রোজগার করতেন না এবং প্রায়ই পারিবারিক বিরোধে জড়াতেন। ঘটনার আগের দিনও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়, যার পর তিনি আত্মীয়ের বাড়িতে চলে যান।

দীঘিনালা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রাণতোষ বণিক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। পারিবারিক কলহ, মাদকাসক্তি কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের ফলাফল পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।