প্রতিনিধি মহালছড়ি:: পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমাদের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব ফুলবিঝু’র মধ্যে দিয়ে তিন দিন ব্যাপি এই উৎসব শুরু হয়। ১২ই এপ্রিল (রবিবার) সকাল ৮ টা সময়ে মনাটেক যাদুগানালা মৎস্যচাষ বহুমুখী সমবায় সমিতি ও মনাটেক কজমা ক্লাব এর উদ্যোগে এক র্যালি ও আলোচনা সভা মধ্য দিয়ে ফুল ভাসানো হয়। এতে শত শত সব বয়সের নারী- পুরুষ ফুল ভাসানোতে অংশ নেন খাগড়াছড়ি জেলা মহালছড়ি মুবাছড়ি ইউনিয়নে মনাটেক গ্রামের যাদুগানালা মৎস্য লেকে।
এ সময় মনাটেক যাদুগানালা মৎস্যচাষ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ সভাপতি রত্ন উজ্জল চাকমার সঞ্চালনায়, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল কান্তি চাকমা, বক্তব্য বলেন পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বর্ষ বরণ করতে তিন দিন ব্যাপী এই উৎসবের নাম ফুলবিঝু, মুরবিঝু ও গোজ্যপজ্য দিন হিসেবে পালন করা হয়।
আমাদের বিঝুর অন্যতম মূল আকর্ষণ হল “পাজন”। পাজন হল বিভিন্ন সবজি বা তরকারি দিয়ে রান্না করে। পাজন ছাড়া বিঝু, সে যেন কল্পনার অতীত। পাজন কমপক্ষে ৩৬ পদের তরকারি সবজি থাকতে হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িদের মধ্যে এই উৎসব বিভিন্ন নামে পরিচিত | ত্রিপুরাদের বৈসু, মারমাদের সাংগ্রাই, চাকমাদের বিঝু, খুমি ও ম্রোদের চাংক্রাই, খিয়াং, লুসাইদের সাংগ্রাই ও তঞ্চঙ্গ্যাদের বিষু। এই নামে যেমন রয়েছে ভিন্নতা, তেমনি রয়েছে উৎযাপনের ক্ষেত্রেও ভিন্নতা |
ঠিক কবে থেকে পাহাড়িদের মধ্যে এই উৎসবের প্রচলন শুরু হয়েছিল, তার নির্দিষ্ট কোন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট জানা সম্ভব না হলেও,যুগ যুগ ধরে ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসবটি পালন করে আসছেন এবং নির্দিষ্ট কোন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট জানা সম্ভব না হলেও, পাহাড়িদের সংষ্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক-বাহক |
এই উৎসবকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে পারষ্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ | পূর্বের কলহ ভুলে নতুন করে সবাই হিংসা, বির্দেষ ভুলে ফুলবিঝুতে গঙ্গাজলে বা গঙ্গা মা উদ্দেশ্য পুষ্পাঞ্জলি বা ফুলভাসিয়ে নিবেদন ও প্রার্থনা করেন। অতীতের সব দুঃখ,কষ্ট ও গ্লানি গঙ্গার জলে ভাসিয়ে নতুন বছরে, সুখ,শান্তি, সমৃদ্ধি, মঙ্গল কামনায় সকলের পরিবার ও জীবনের বয়ে আনে। এ দিকে মারমা ও ত্রিপুরা পাড়া এলাকা গুলিতে তাদের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই ও বৈসুর আমেজে এলাকা সরগরম।



অনলাইনের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন