চট্টগ্রাম সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

রাঙামাটিতে পাহাড়ধস, দুর্গতদের সহযোগিতার আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর

  • প্রতিবেদক
  • আপডেট : ০৭:৪৭:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ১৫২ বার
৪৪

স্টাফ রিপোর্টার,রাঙামাটি:: টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ধসের ঘটনায় অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত জেলার অন্তত ৯৭টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে ২০০টিরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ধসের ঘটনাগুলোর মধ্যে কাপ্তাই উপজেলায় ১৫টি, বাঘাইছড়িতে ৩টি, কাউখালীতে ৩০টি, রাঙামাটি সদরে ১০টি, নানিয়ারচরে ২টি এবং বিলাইছড়িতে ৩৭টিসহ মোট ৯৭টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় জেলার বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং কয়েকটি এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

এদিকে দুর্যোগ মোকাবিলায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসন জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ২০০টিরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ৪ হাজার ১৬৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রিতদের জন্য তিন বেলা খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে জেলা প্রশাসন।

বর্তমানে রাঙামাটি পৌরসভা, রাঙামাটি সদর, কাউখালী, কাপ্তাই, বাঘাইছড়ি পৌরসভা, বাঘাইছড়ি উপজেলা, জুরাছড়ি, রাজস্থলী, নানিয়ারচর ও বিলাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে দুর্গত মানুষ অবস্থান করছেন। তাদের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

অবিরাম বর্ষণ অব্যাহত থাকায় জেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। নতুন করে পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।

এদিকে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ধস পরিস্থিতিতে রাঙামাটির সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে জেলায় ছুটে আসেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল। তিনি রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন, আশ্রিতদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, “বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। তাই যেকোনো দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার সবসময় থাকবে।” তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে ঝুঁকি এড়িয়ে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

Download Photocard

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Al- Mamun

রাঙামাটিতে পাহাড়ধস, দুর্গতদের সহযোগিতার আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর

আপডেট : ০৭:৪৭:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
৪৪

স্টাফ রিপোর্টার,রাঙামাটি:: টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ধসের ঘটনায় অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত জেলার অন্তত ৯৭টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে ২০০টিরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ধসের ঘটনাগুলোর মধ্যে কাপ্তাই উপজেলায় ১৫টি, বাঘাইছড়িতে ৩টি, কাউখালীতে ৩০টি, রাঙামাটি সদরে ১০টি, নানিয়ারচরে ২টি এবং বিলাইছড়িতে ৩৭টিসহ মোট ৯৭টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় জেলার বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং কয়েকটি এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

এদিকে দুর্যোগ মোকাবিলায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসন জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ২০০টিরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ৪ হাজার ১৬৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রিতদের জন্য তিন বেলা খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে জেলা প্রশাসন।

বর্তমানে রাঙামাটি পৌরসভা, রাঙামাটি সদর, কাউখালী, কাপ্তাই, বাঘাইছড়ি পৌরসভা, বাঘাইছড়ি উপজেলা, জুরাছড়ি, রাজস্থলী, নানিয়ারচর ও বিলাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে দুর্গত মানুষ অবস্থান করছেন। তাদের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

অবিরাম বর্ষণ অব্যাহত থাকায় জেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। নতুন করে পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।

এদিকে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ধস পরিস্থিতিতে রাঙামাটির সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে জেলায় ছুটে আসেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল। তিনি রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন, আশ্রিতদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, “বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। তাই যেকোনো দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার সবসময় থাকবে।” তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে ঝুঁকি এড়িয়ে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

Download Photocard