আল-মামুন:: খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার অনিলপাড়ায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ইউপিডিএফ এর চার নেতা হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে পানছড়ি থানায়। অজ্ঞাত ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামী করে এ মামলা দায়ের করেছেন নিহত বিপুল চাকমার চাচা নিরুপম চাকমা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত সফিউল আজম। এর আগে হত্যাকাণ্ডের শিকার বিপুল চাকমাসহ চারজনের মরদেহ খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে তাদের স্বজনদের হাতে হস্থান্তর করা হয়। বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় ময়না তদন্ত শেষ এ প্রক্রিয়া শেষ করা হয়। এ সময় স্বজনদের আহাজারীতে ভারী হয়ে উঠে হাসপাতালসহ আশপাশের এলাকা। পরে নিহতদের গুলিতে ক্ষত-বিক্ষত লাশের ময়না তদন্তের পর কপিনে করে নিয়ে যাওয়া হয় খাগড়াছড়ি স্বনির্ভর ইউপিডিএফ অফিসের সামনে।
সেখানে দুপুর ২টার ২০ মিনিটের পর প্রসীতপন্থী ইউপিডিএফ সমর্থিত পিসিপি,গণতান্ত্রিক যুব সমিতি ও হিল ইউমেন্স ফেডারেশন এর নেত্রীরা গভীর শ্রদ্ধা,ভালোবাসায় দলীয় পতাকা নিয়ে স্যালুট জানিয়ে ছবি যুক্ত স্ব-স্ব লাশের কপিনে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে এক সারিতে লাশবাহী গাড়ীবহর নিয়ে পানছড়ির দিকে ছুটে চলে গাড়িগুলো। এর আগে ৪ ইউপিডিএফ নেতাদের গুলি করে হত্যার প্রায় ২০ ঘন্টা পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিথর পঁচন ধরা মরদেহ পানছড়ি থানা পুলিশ উদ্ধার করেছে বলে অভিযোগ করেন।
গত সোমবার (১১ ডিসেম্বর) রাতে লোগাং ইউনিয়নের অনিলপাড়া এলাকায় প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হয়, প্রসীতপস্থী ইউপিডিএফ সমর্থিত গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাবেক সভাপতি বিপুল চাকমা,খাগড়াছড়ি জেলা সহ-সভাপতি লিটন চাকমা,পিসিপির সহ-সভাপতি সুনীল ত্রিপুরা ও ইউপিডিএফের সদস্য রুহিনসা ত্রিপুরাসহ ৪ জন নিহত। এসময় অস্ত্রধারীর আরো ৩ জনকে ধরে নিয়ে যায়।
এ নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ইউপিডিএফ ও সহযোগী সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে হত্যাকাণ্ডের জন্য ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিককে দায়ী করলেও সে দায় অস্বীকার করে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক তাদের বিরুদ্ধে ইউপিডিএফ অপপ্রচার বলে পাল্টা বিবৃতি দেয়। এ ঘটনায় কর্মসূচী ঘোষণা করেছে প্রসিতপন্থী ইউপিডিএফ।



অনলাইনের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন