ফুল বাগান দেখতে দর্শনার্থীদের ভীড়।
মো: সোহেল রানা,স্টাফ রিপোর্টার:: খাগড়াছড়ি দীঘিনালা উপজেলায় তামাক চাষের আখড়া পরিনত হয়েছে। উপজেলার কৃষি-ফসলী জমি মাইনী নদীর তীর ঘেঁষে শুধু তামাক আর তামাক। উপজেলায় কবাখালী ইউনিয়নে বসতবাড়ি পাশে জমি বর্গা না দিয়ে কৃষি অফিস থেকে প্রনোদনা হিসেবে সূর্যমূখী ফুল চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলে দিয়েছে।
প্রচুর পরিমানে ফুল ধরেছে, প্রতিদিন প্রচুর পরিমানে দর্শনার্থী আসছে ফুল বাগান দেখতে আর ছবি তুলতে। সোস্যাল মিডিয়া ছড়িয়ে দিচ্ছে সূর্যমূখী ফুল বাগানের ছবি। তামাক বিকল্প হতে পারে সরিষা, ভূটা, সূর্যমূখী ফুল চাষ করে কৃষক লাভবান হতে পারে।
সূর্যমূখী ফুল চাষী উত্তম চাকমা বলেন, প্রতি বছর আমি আমার বাড়ির পাশের জমি তামাক চাষীদের কাছে বর্গা দিতাম। তামাক চাষে গাছে তামাক চাষীরা যখন কীটনাশক ও বিভিন্ন ঔষধ দেয় এতে প্রচুর গন্ধ সৃষ্টি হয়। কীটনাশকের গন্ধে ছেলে-মেয়ে নিয়ে ঘরে থাকতে অনেক সমস্যা হতো।
তাই এবছর তামাক চাষীর কাছে জমি বর্গা না দিয়ে দীঘিনালা উপজেলা কৃষি উপসহকারী অফিসারের পরামর্শে ত্রিশ শতক জমিতে প্রনোদনা মাধ্যমে সূর্যমূখী ফুলের বীজ ও সার দেয়। চাষ করতে খরচ কম। ভালো ফলন আসছে আশা করছি খরচে চেয়ে দ্বিগুন লাভ হবে।

উত্তম চাকমা‘র সহর্ধমিনী সোনালী চাকমা বলেন, আমার স্বামী প্রতিবছর বাড়ির আশেপাশে জমিগুলো চাকমা চাষীর কাছে বর্গা দিত। তামাক চাষীরা তামাক গাছে প্রচুর সার কীটনাশক দেয় এতে প্রচুর গন্ধ সৃষ্টি হয় ছেলে মেয়ে নিয়ে ঘরের থাকতে কষ্ট হয়।
তাই এবছর আমার স্বামীকে তামাকে জমি বর্গা দিতে দেই নাই। কৃষি অফিস থেকে সূর্যমূখী ফুলের বীজ এনে জমিতে রোপন করছে। অনেক ফুল হয়েছে প্রতিদিন অনেকে দেখতে আসে ফুলের বাগান আর ছবি তুলে।
দীঘিনালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: শাহাদাত হোসেন বলেন, দীঘিনালা উপজেলা যেহেতু তামাক অধ্যুষিত অঞ্চল তামাকের বিকল্প ফসল হিসেবে সরিষা, সূর্যমূখীসহ বেশ কয়টি ফসল পুনস্থানের চেষ্টা করা হচ্ছে, তবে সূর্যমূখী চাষে কৃষকরা খুব সাফল্য পাচ্ছে, কৃষকরাও লাভবান হচ্ছে,সূর্যমূখী ফুল চাষে খুব বেশি কৃষি উপকরনের প্রয়োজন হয় না, সার পরিমানে অল্প লাগে। আমি মনে করি সূর্যমূখী চাষের মাধ্যমে তামাক চাষ হ্রাস করতে পাবর। এবছর সরকারি প্রনোদনার মাধ্যমে উপজেলায় ৪০বিগা জমিতে সূর্যমূখী ফুল চাষ করছে চাষীরা।



ফুল বাগান দেখতে দর্শনার্থীদের ভীড়।
অনলাইনের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন