স্টাফ রিপোর্টার:: দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা সংরক্ষণ,দেশবিরোধী এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ঘোষনা দিয়েছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট। ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার লক্ষ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও পথসভা কর্মসূচি গ্রহণের ঘোষণাও দেয়া হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে। রবিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব কথা জানান সংগঠনটির নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের মুখপাত্র পাইশিখই মারমা বলেন,পার্বত্য চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটি চিহ্নিত দেশবিরোধী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী চক্র দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, উসকানি ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আসছে, যা সরাসরি বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকি।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে। এই বাস্তবতা অস্বীকারের চেষ্টা করলে তার রাজনৈতিক, সামাজিক ও আইনগত পরিণতি ভোগ করতে হবে। বিদেশি স্বার্থ রক্ষার নামে যারা দেশের ভেতরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তাদের উদ্দেশে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের অবস্থান স্পষ্ট—রাষ্ট্রবিরোধী রাজনীতির জন্য এই মাটিতে কোনো জায়গা নেই।
এ প্রেক্ষাপটে সংগঠনটি সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও দেশবিরোধী অপতৎপরতা প্রতিহত করতে সচেতনতা বার্তা সম্পন্ন লিফলেট বিতরণ এবং পথসভা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বলে জানান পাইশিখই মারমা। একই সাথে বরং এটি একটি রাজনৈতিক প্রতিরোধ বলে তিনি মন্তব্য করেন। জনগণকে সম্পৃক্ত করে রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহ্বায়ক থোয়াইচিং মং চাক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অংশ হলেও বাস্তবে অবহেলা, বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়নের মতো মৌলিক অধিকার থেকে পার্বত্যবাসীকে বঞ্চিত রেখে জাতীয় অগ্রগতি ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষা খাতের অবস্থা উদ্বেগজনক। পর্যাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যোগ্য শিক্ষক ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার অভাব, দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবকাঠামোগতভাবে জরাজীর্ণ এবং কোথাও দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট চলমান, যার ফলে একটি প্রজন্মকে পরিকল্পিতভাবে পিছিয়ে রাখা হচ্ছে।
উন্নয়নের নামে পরিকল্পনাহীন প্রকল্প, স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাব ও স্থানীয় জনগণকে উপেক্ষা করার অভিযোগ তুলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন কোনো রাজনৈতিক দয়ার বিষয় নয়; এগুলো পার্বত্যবাসীর সাংবিধানিক অধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের প্রতি অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, দক্ষ ও স্থায়ী জনবল নিয়োগ এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় এই বৈষম্য ও অবহেলার দায় রাষ্ট্রকে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেয়া হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।
এতে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দৈনিক পার্বত্যকণ্ঠ এর সম্পাদক শাহীন আলম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. নিজাম উদ্দিন, বান্দরবান জেলা কমিটির জিরা বাবু তঞ্চগ্যা, খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির ইসমাইল হোসেন, সমাজকর্মী মোকতার হেসেনসহ সংগঠনের অন্যান্য উপস্থিত ছিলেন।



অনলাইনের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন