স্টাফ রিপোর্টার:: খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় একটি তুলার মিলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে তুলা তৈরির ছয়টি রিফাইনারি মেশিন, ছয়টি বড় মোটর, কাঁচামালসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মিলের মালিক গাজিউর রহমান।
রোববার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলের দিকে মাটিরাঙ্গা পৌর এলাকার কাজীপাড়ায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
মাটিরাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন অফিসার হারুন অর রশিদ জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

মিলের মালিক গাজিউর রহমান জানান, তাঁর মিলে তুলা তৈরির ছয়টি রিফাইনারি মেশিন ও ছয়টি বড় মোটর ছিল। প্রতিটি বড় মোটরের দাম প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। বাতিল জুট ও অন্যান্য কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাত করে এসব মেশিনের মাধ্যমে তুলা তৈরি করা হতো। পরে সেই তুলা দিয়ে লেপ-তোশক তৈরি করা হতো। অগ্নিকাণ্ডে মিলের যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও অন্যান্য সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মিলটিতে প্রতিদিন প্রায় ৩০ জন শ্রমিক ও ছয়জন মিস্ত্রি কাজ করতেন। অগ্নিকাণ্ডে মিলের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি এসব শ্রমিকের কর্মসংস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
মিলের শ্রমিক মানিক মিয়া বলেন, “তখন মেশিনগুলো চালু ছিল। হঠাৎ করেই বৈদ্যুতিক তারে আগুন জ্বলতে দেখি। মুহূর্তের মধ্যেই তা চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুনের লেলিহান শিখা পুরো এলাকা গ্রাস করে নেয়। চোখের সামনেই সবকিছু ধ্বংস হয়ে যেতে দেখলাম।”
অগ্নিকাণ্ডের তাণ্ডবে বাকরুদ্ধ মিলের ব্যবস্থাপক কবির হোসেন বলেন, “নিজের চোখের সামনে এভাবে সব স্বপ্ন পুড়ে ছাই হতে দেখলাম, কিন্তু কিছুই করতে পারলাম না। এই মিলটি শুধু একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল না, ছিল আমাদের বহু মানুষের রুটি-রুজির ঠিকানা ও বছরের পর বছরের পরিশ্রম। মুহূর্তের একটি আগুনে সব কিছু ধূলিসাৎ হয়ে গেল।”
প্রতিবেদক 





















