আপডেট :
০২:২৩:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৬
বার
র্যাব বিলুপ্ত, এসআরবির কার্যক্রম শুরু
স্টাফ রিপোর্টার:: র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে গঠিত স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। বুধবার থেকে বাহিনীর সব কার্যক্রম এসআরবি নামে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাহিনী প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি আহসান হাবীব পলাশ। এর আগে মঙ্গলবার ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর প্রজ্ঞাপন জারি হয়। এর মধ্য দিয়ে র্যাবের কার্যক্রম নতুন নামে পরিচালনার আইনি ভিত্তি তৈরি হয়। ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ গঠিত র্যাব প্রায় সাড়ে ২২ বছর ধরে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে কাজ করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এসআরবির নিজস্ব পোশাক, লোগো, সদস্যদের ব্যাচ, যানবাহনের রংসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক বিষয় চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এসব পরিবর্তন বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে। তাই নতুন নামে কার্যক্রম শুরু হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে মাঠপর্যায়ে র্যাবের বিদ্যমান সরঞ্জাম ও অবকাঠামো ব্যবহার করা হবে। এসআরবির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এ জেড ইন্তেখাব চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। র্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয়। ওই বিলে র্যাবের জনবল, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সম্পদ ও দায়-দেনা নতুন বাহিনীতে হস্তান্তরের বিধান রাখা হয়। আইন অনুযায়ী, র্যাবের সংশ্লিষ্ট জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, নগদ অর্থ ও ব্যাংকে থাকা অর্থ, দায়-দেনা, চুক্তি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, হিসাব বই, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্র ও অন্যান্য দলিল এসআরবির কাছে তাৎক্ষণিকভাবে হস্তান্তর ও ন্যস্ত করার কথা বলা হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, এসআরবি হবে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট। সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ ও অন্যান্য শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং নির্ধারিতসংখ্যক কর্মকর্তা, সশস্ত্র সদস্য বা কর্মচারীকে পদায়ন বা প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে ইউনিটটি গঠন করা যাবে। সদস্যদের পদবিন্যাস, নিয়োগপদ্ধতি ও চাকরির শর্তাবলি বিধির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। এসআরবির মহাপরিচালক হিসেবে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউনিটটির নিজস্ব পতাকা, প্রতীক ও নির্ধারিত পোশাক থাকার কথা বলা হয়েছে। জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং গুরুতর অপরাধ মোকাবিলায় বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে এসআরবি। এর দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে বেআইনি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদক ও সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, গুম ও ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে কার্যক্রম পরিচালনা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, মানবপাচার ও অপহরণের মতো অপরাধ মোকাবিলা। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করার দায়িত্বও থাকবে এসআরবির। আদালত, সরকার অথবা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে ইউনিটটি ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত করতে পারবে। আইন অনুযায়ী, ফৌজদারি কার্যবিধি ও সংশ্লিষ্ট আইন অনুসরণ করে তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও আলামত জব্দের ক্ষমতাও থাকবে এসআরবির। এ ক্ষেত্রে সাব-ইন্সপেক্টর বা তার ঊর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা তদন্তকারী কর্মকর্তার নির্ধারিত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। এসআরবি সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় অভিযোগ এবং নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্যও আইনে পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একাধিক সদস্যের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে। কমিটি অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রাথমিক সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারবে। সদস্যদের পদোন্নতি, পদায়ন, বিভাগীয় শাস্তি, হয়রানি বা অন্যায্য আচরণসংক্রান্ত অভিযোগও এই ব্যবস্থার আওতায় আসবে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এসআরবি সদস্যদের বিরুদ্ধে বরখাস্ত, অপসারণ, বাধ্যতামূলক অবসর, পদাবনতি ও পদোন্নতি বন্ধসহ বিভিন্ন লঘু ও গুরুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। বিভাগীয় আদেশের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগও রয়েছে।
২০
স্টাফ রিপোর্টার:: র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে গঠিত স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। বুধবার থেকে বাহিনীর সব কার্যক্রম এসআরবি নামে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাহিনী প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি আহসান হাবীব পলাশ।
এর আগে মঙ্গলবার ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর প্রজ্ঞাপন জারি হয়। এর মধ্য দিয়ে র্যাবের কার্যক্রম নতুন নামে পরিচালনার আইনি ভিত্তি তৈরি হয়। ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ গঠিত র্যাব প্রায় সাড়ে ২২ বছর ধরে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে কাজ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এসআরবির নিজস্ব পোশাক, লোগো, সদস্যদের ব্যাচ, যানবাহনের রংসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক বিষয় চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এসব পরিবর্তন বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে। তাই নতুন নামে কার্যক্রম শুরু হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে মাঠপর্যায়ে র্যাবের বিদ্যমান সরঞ্জাম ও অবকাঠামো ব্যবহার করা হবে।
এসআরবির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এ জেড ইন্তেখাব চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
র্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয়। ওই বিলে র্যাবের জনবল, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সম্পদ ও দায়-দেনা নতুন বাহিনীতে হস্তান্তরের বিধান রাখা হয়।
আইন অনুযায়ী, র্যাবের সংশ্লিষ্ট জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, নগদ অর্থ ও ব্যাংকে থাকা অর্থ, দায়-দেনা, চুক্তি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, হিসাব বই, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্র ও অন্যান্য দলিল এসআরবির কাছে তাৎক্ষণিকভাবে হস্তান্তর ও ন্যস্ত করার কথা বলা হয়েছে।
নতুন আইন অনুযায়ী, এসআরবি হবে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট। সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ ও অন্যান্য শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং নির্ধারিতসংখ্যক কর্মকর্তা, সশস্ত্র সদস্য বা কর্মচারীকে পদায়ন বা প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে ইউনিটটি গঠন করা যাবে। সদস্যদের পদবিন্যাস, নিয়োগপদ্ধতি ও চাকরির শর্তাবলি বিধির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
এসআরবির মহাপরিচালক হিসেবে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউনিটটির নিজস্ব পতাকা, প্রতীক ও নির্ধারিত পোশাক থাকার কথা বলা হয়েছে।
জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং গুরুতর অপরাধ মোকাবিলায় বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে এসআরবি। এর দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে বেআইনি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদক ও সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, গুম ও ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে কার্যক্রম পরিচালনা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, মানবপাচার ও অপহরণের মতো অপরাধ মোকাবিলা।
এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করার দায়িত্বও থাকবে এসআরবির। আদালত, সরকার অথবা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে ইউনিটটি ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত করতে পারবে।
আইন অনুযায়ী, ফৌজদারি কার্যবিধি ও সংশ্লিষ্ট আইন অনুসরণ করে তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও আলামত জব্দের ক্ষমতাও থাকবে এসআরবির। এ ক্ষেত্রে সাব-ইন্সপেক্টর বা তার ঊর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা তদন্তকারী কর্মকর্তার নির্ধারিত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।
এসআরবি সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় অভিযোগ এবং নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্যও আইনে পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একাধিক সদস্যের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে। কমিটি অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রাথমিক সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারবে।
সদস্যদের পদোন্নতি, পদায়ন, বিভাগীয় শাস্তি, হয়রানি বা অন্যায্য আচরণসংক্রান্ত অভিযোগও এই ব্যবস্থার আওতায় আসবে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এসআরবি সদস্যদের বিরুদ্ধে বরখাস্ত, অপসারণ, বাধ্যতামূলক অবসর, পদাবনতি ও পদোন্নতি বন্ধসহ বিভিন্ন লঘু ও গুরুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। বিভাগীয় আদেশের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগও রয়েছে।