চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

বাড়ছে বিদেশী জাতের আমের আবাদ

  • প্রতিবেদক
  • আপডেট : ০২:২৭:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • ৮৯ বার
২৩

স্টাফ রিপোর্টার:: খাগড়াছড়িতে বিদেশি জাতের আমের আবাদ বাড়ছে । পাহাড়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু অনুকূল ও উর্বর মাটির কারণে আমের বাণিজ্যিকভাবে আবাদ করে কৃষকরা সাফল্য পাচ্ছেন। দেশীয় আমের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি দাম পাওয়ায় আবাদের আগ্রহ বাড়ছে বলছেন কৃষকরা।

যে রঙিন আমের আবাদ হচ্ছে, ব্লাক স্টোন, মিয়াজাকি, কিউজাই, নাম ডক মাই, হানিভিউ, রেড পালমার, ইতালিয়ান অস্টিন, ব্যানানা, আমেরিকান পারমাল, আমেরিকান কেইন, আর টু ইটু, রেড এমপেরর, রেড আইভেরি, আমেরিকান কেন্ট, কেইট, মহাচনক, কেষর, পুষা, পুসা সুরিয়া, অরুণিমা, পুসা অরুনিমা, তোতাপুরী,কাটিমন, কারাবাও, অস্ট্রেলিয়ান কেনসিংটন প্রাইড, টমি অ্যাটকিন্স, আলফানসো, বেইলির মার্ভেল, থ্রি টেষ্ট, মায়া, থাই কাচাঁ মিঠা, ভ্যালেন্সিয়া প্রাইড ফ্লোরিডার, অস্টিন গোল।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে খাগড়াছড়িতে ৫ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে দেশি ও বিদেশি জাতের আমের আবাদ হয়েছে। এ দিকে বিদেশি আমের চাষ সম্প্রসারণে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। তবে আম বিপণনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বাগান মালিকরা।

বাগানে গিয়ে দেখা যায়, গাছের থোকায় থোকায় ঝুলছে পাকা রঙিন আম। তাই বাগানিরা এখন শ্রমিক নিয়ে রঙিন আম সংগ্রহ করতে পুরো দমে কাজ করছেন। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আম পাঠাতে চলছে প্যাকেটিং।

সদর উপজেলার ২নং কমলছড়ি নতুনপাড়া এলাকার কৃষক মংশিতু চৌধুরী বলেন, বাগানে ৫৪টি রঙিন জাতের মধ্যে ৪০টি জাতে কয়েক বছর ধরে ফলন দিয়ে আসছে । ৩০ একর বেশি জমিতে ৪ হাজার কাছাকাছি গাছ আছে। তারমধ্যে বিদেশী তারমধ্যে ব্লাক স্টোন, কিউজাই, নাম ডক মাই, মিয়াজাকি, আমেরিকান পালমার, ব্যানানা ম্যাংগো,থাইল্যান্ডের চিয়াংমাই, কিউজাই, রেড লেডি, আপেল ম্যাংগো, দোকমাই ও কেসিংটন প্রাইডসহ বিভিন্ন বিদেশি জাতের আমের আবাদ করছি।

প্রায় গাছে ভালো ফলন হয়েছে। এই বছর ২০ টন ফল পাব বলে আশা করি। বিদেশী জাতের আমের চাহিদা বাড়ছে, তাই বাগান বাড়ানোর চেষ্টা করছি। দেশী আমের চেয়ে বিদেশী জাতের আমের দাম বেশি পাওয়া যায় বলেই
নতুন উদ্যোক্তাও ঝুঁকছেন বিদেশী আবাদে।

মংশিতু চৌধুরী বলেন, বিদেশে রপতানি করার জন্য আবাদ করতেছি। এই বছর আমি বিদেশে রপ্তানির জন্য ল্যাবে আবেদন করেছি। যদি সার্টিফিকেট পাই তাহলে আগ্রামি বছর থেকে রপ্তানি শুরু করব। আম বেশি বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে।

রঙিন আম চাষি উমংচিং মারমা বলেন, পরীক্ষামূলক ভাবে রঙিন আম লাগিয়ে দেখেছি ভালো ফলন এসেছে, ভালো দামও পাচ্ছি । বাগানে রঙিন বিশ জাতের মধ্যে পাঁচটি জাত বেশি লাগানো হয়েছে, সব মিলে চার-পাঁচশমত গাছ আছে। দেশি আমের চেয়ে রঙিন আমে ভালো দাম পাওয়া। তাই জেলার প্রায় বাগানে কম-বেশি রঙিন জাতের আবাদ বাড়ছে।

কৃষক মংশিতু চৌধুরী জানান, ব্লাক স্টোন ৫০০, মিয়াজাকি ২৫০, কিউজাই ১০০, নাম ডক মাই ১৫০, হানিভিউ ৩০০, রেড পালমার ৩০০, ইতালিয়ান অস্টিন ৫০০, ব্যানানা ১০০, আমেরিকান পারমাল ৫০০, আমেরিকান কেইন ১৫০, আর টু ইটু ১৫০, রেড এমপেরর ৩০০, রেড আইভেরি ১৫০, আমেরিকান কেন্ট ১৫০, কেইট ১৫০. মহাচনক ৭০, পুষা ৩০০, পুসা সুরিয়া ৩০০, অরুণিমা ৩০০, তোতাপুরী ১৫০, কাটিমন ১০০ টাকায় বাগানে আম বিক্রি করছি।

খাগড়াছড়ি ফলদ বাগান মালিক সমিতি আহ্বায়ক কালো বরণ চাকমা বলেন, আম বাগান মালিকদের থেকে অবৈধভাবে অতিরিক্ত টোল আদায় করা হচ্ছে। যদি টোল আদায় কমিয়ে নেয় তাহলে আমাদের জন্য সুবিধা হবে।

খাগড়াছড়ি মারমা ফলজ বাগান মালিক সমিতি লি. এর আহ্বায়ক আবুশ্যি মারমা বলেন, বাগানিরা দেশির চেয়ে ভালো ফলন আসে এমন জাত দেখে বিদেশী জাতের আম বাগান করছি। ভালো ফলনও দিচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে দেশি আম বিলুপ্ত হবে। আমাদের সমিতিতে আশি জনের বেশি সদস্য আছে সবার বাগানে কম-বেশি বিদেশী জাতের আমের আবাদ করছেন।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, কয়েক বছর ধরে খাগড়াছড়িতে বিদেশী জাতের আমের আবাদ শুরু হয়েছে। পালমার, মিয়াজাকি, ব্যানানা, চিয়াংমাই, কিউজাইসহ আরো জাত আছে এগুলো চাষ হচ্ছে এবং চাষের এরিয়া দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি বলেন, বাণিজ্যিক জাত কৃষক পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এই জাতগুলো পরীক্ষা-নীরিক্ষা পর্যায়ে আছে। সবগুলোকে বাণিজ্যিকজাত হবে কি না বলতে পারছি না, দুই-এক বছর যাওয়ার পরে বলতে পারব কোনগুলো বাণিজ্যিক জাত হবে।

খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মালেক জুয়েল বলেন, খাগড়াছড়িতে ইদানিং কিছু রঙিন (বিদেশী) জাতের আম কৃষকরা চাষাবাদ শুরু করেছেন। সেইগুলো নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা আমাদের চলমান রয়েছে। সেই জার্মপ্লাজমগুলো সংগ্রহে রয়েছে। মূল্যায়ন মাধ্যমে আরো নতুন জাতের আম অবমুক্ত করতে পারব । এখানে রঙিন জাতের আমের চাহিদা রয়েছে, বিশেষ করে পর্যটদের মাঝেও সেই চাহিদা পূরর্ণ হবে।

Download Photocard

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাড়ছে বিদেশী জাতের আমের আবাদ

আপডেট : ০২:২৭:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
২৩

স্টাফ রিপোর্টার:: খাগড়াছড়িতে বিদেশি জাতের আমের আবাদ বাড়ছে । পাহাড়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু অনুকূল ও উর্বর মাটির কারণে আমের বাণিজ্যিকভাবে আবাদ করে কৃষকরা সাফল্য পাচ্ছেন। দেশীয় আমের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি দাম পাওয়ায় আবাদের আগ্রহ বাড়ছে বলছেন কৃষকরা।

যে রঙিন আমের আবাদ হচ্ছে, ব্লাক স্টোন, মিয়াজাকি, কিউজাই, নাম ডক মাই, হানিভিউ, রেড পালমার, ইতালিয়ান অস্টিন, ব্যানানা, আমেরিকান পারমাল, আমেরিকান কেইন, আর টু ইটু, রেড এমপেরর, রেড আইভেরি, আমেরিকান কেন্ট, কেইট, মহাচনক, কেষর, পুষা, পুসা সুরিয়া, অরুণিমা, পুসা অরুনিমা, তোতাপুরী,কাটিমন, কারাবাও, অস্ট্রেলিয়ান কেনসিংটন প্রাইড, টমি অ্যাটকিন্স, আলফানসো, বেইলির মার্ভেল, থ্রি টেষ্ট, মায়া, থাই কাচাঁ মিঠা, ভ্যালেন্সিয়া প্রাইড ফ্লোরিডার, অস্টিন গোল।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে খাগড়াছড়িতে ৫ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে দেশি ও বিদেশি জাতের আমের আবাদ হয়েছে। এ দিকে বিদেশি আমের চাষ সম্প্রসারণে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। তবে আম বিপণনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বাগান মালিকরা।

বাগানে গিয়ে দেখা যায়, গাছের থোকায় থোকায় ঝুলছে পাকা রঙিন আম। তাই বাগানিরা এখন শ্রমিক নিয়ে রঙিন আম সংগ্রহ করতে পুরো দমে কাজ করছেন। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আম পাঠাতে চলছে প্যাকেটিং।

সদর উপজেলার ২নং কমলছড়ি নতুনপাড়া এলাকার কৃষক মংশিতু চৌধুরী বলেন, বাগানে ৫৪টি রঙিন জাতের মধ্যে ৪০টি জাতে কয়েক বছর ধরে ফলন দিয়ে আসছে । ৩০ একর বেশি জমিতে ৪ হাজার কাছাকাছি গাছ আছে। তারমধ্যে বিদেশী তারমধ্যে ব্লাক স্টোন, কিউজাই, নাম ডক মাই, মিয়াজাকি, আমেরিকান পালমার, ব্যানানা ম্যাংগো,থাইল্যান্ডের চিয়াংমাই, কিউজাই, রেড লেডি, আপেল ম্যাংগো, দোকমাই ও কেসিংটন প্রাইডসহ বিভিন্ন বিদেশি জাতের আমের আবাদ করছি।

প্রায় গাছে ভালো ফলন হয়েছে। এই বছর ২০ টন ফল পাব বলে আশা করি। বিদেশী জাতের আমের চাহিদা বাড়ছে, তাই বাগান বাড়ানোর চেষ্টা করছি। দেশী আমের চেয়ে বিদেশী জাতের আমের দাম বেশি পাওয়া যায় বলেই
নতুন উদ্যোক্তাও ঝুঁকছেন বিদেশী আবাদে।

মংশিতু চৌধুরী বলেন, বিদেশে রপতানি করার জন্য আবাদ করতেছি। এই বছর আমি বিদেশে রপ্তানির জন্য ল্যাবে আবেদন করেছি। যদি সার্টিফিকেট পাই তাহলে আগ্রামি বছর থেকে রপ্তানি শুরু করব। আম বেশি বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে।

রঙিন আম চাষি উমংচিং মারমা বলেন, পরীক্ষামূলক ভাবে রঙিন আম লাগিয়ে দেখেছি ভালো ফলন এসেছে, ভালো দামও পাচ্ছি । বাগানে রঙিন বিশ জাতের মধ্যে পাঁচটি জাত বেশি লাগানো হয়েছে, সব মিলে চার-পাঁচশমত গাছ আছে। দেশি আমের চেয়ে রঙিন আমে ভালো দাম পাওয়া। তাই জেলার প্রায় বাগানে কম-বেশি রঙিন জাতের আবাদ বাড়ছে।

কৃষক মংশিতু চৌধুরী জানান, ব্লাক স্টোন ৫০০, মিয়াজাকি ২৫০, কিউজাই ১০০, নাম ডক মাই ১৫০, হানিভিউ ৩০০, রেড পালমার ৩০০, ইতালিয়ান অস্টিন ৫০০, ব্যানানা ১০০, আমেরিকান পারমাল ৫০০, আমেরিকান কেইন ১৫০, আর টু ইটু ১৫০, রেড এমপেরর ৩০০, রেড আইভেরি ১৫০, আমেরিকান কেন্ট ১৫০, কেইট ১৫০. মহাচনক ৭০, পুষা ৩০০, পুসা সুরিয়া ৩০০, অরুণিমা ৩০০, তোতাপুরী ১৫০, কাটিমন ১০০ টাকায় বাগানে আম বিক্রি করছি।

খাগড়াছড়ি ফলদ বাগান মালিক সমিতি আহ্বায়ক কালো বরণ চাকমা বলেন, আম বাগান মালিকদের থেকে অবৈধভাবে অতিরিক্ত টোল আদায় করা হচ্ছে। যদি টোল আদায় কমিয়ে নেয় তাহলে আমাদের জন্য সুবিধা হবে।

খাগড়াছড়ি মারমা ফলজ বাগান মালিক সমিতি লি. এর আহ্বায়ক আবুশ্যি মারমা বলেন, বাগানিরা দেশির চেয়ে ভালো ফলন আসে এমন জাত দেখে বিদেশী জাতের আম বাগান করছি। ভালো ফলনও দিচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে দেশি আম বিলুপ্ত হবে। আমাদের সমিতিতে আশি জনের বেশি সদস্য আছে সবার বাগানে কম-বেশি বিদেশী জাতের আমের আবাদ করছেন।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, কয়েক বছর ধরে খাগড়াছড়িতে বিদেশী জাতের আমের আবাদ শুরু হয়েছে। পালমার, মিয়াজাকি, ব্যানানা, চিয়াংমাই, কিউজাইসহ আরো জাত আছে এগুলো চাষ হচ্ছে এবং চাষের এরিয়া দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি বলেন, বাণিজ্যিক জাত কৃষক পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এই জাতগুলো পরীক্ষা-নীরিক্ষা পর্যায়ে আছে। সবগুলোকে বাণিজ্যিকজাত হবে কি না বলতে পারছি না, দুই-এক বছর যাওয়ার পরে বলতে পারব কোনগুলো বাণিজ্যিক জাত হবে।

খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মালেক জুয়েল বলেন, খাগড়াছড়িতে ইদানিং কিছু রঙিন (বিদেশী) জাতের আম কৃষকরা চাষাবাদ শুরু করেছেন। সেইগুলো নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা আমাদের চলমান রয়েছে। সেই জার্মপ্লাজমগুলো সংগ্রহে রয়েছে। মূল্যায়ন মাধ্যমে আরো নতুন জাতের আম অবমুক্ত করতে পারব । এখানে রঙিন জাতের আমের চাহিদা রয়েছে, বিশেষ করে পর্যটদের মাঝেও সেই চাহিদা পূরর্ণ হবে।

Download Photocard