চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬

২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন,ইসির তফসিল ঘোষণা

  • প্রতিবেদক
  • আপডেট : ১১:০৭:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪ বার

স্টাফ রিপোর্টার:: দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০২৬) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে কমিশনের এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে তফসিল অনুমোদনের পর দুপুর ২টায় নির্বাচন ভবনে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ তা ঘোষণা করেন।

বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ ও তাহমিদা আহমদ উপস্থিত ছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ দেশের বাইরে থাকায় অংশ নিতে পারেননি।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে এবং ১৮ আগস্ট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর ২০ আগস্ট সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। এছাড়া প্রার্থীর নিজস্ব সম্মতিসূচক স্বাক্ষরও থাকতে হবে।

যদি বৈধ প্রার্থী একজনই থাকেন, তাহলে তাকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। তবে একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। এরপর প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মনোনয়নপত্র জমা ও যাচাই-বাছাই হবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে।

আইনের সপ্তম ধারা অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র যাচাই শেষে যদি কেবল একজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ থাকে, তাহলে নির্বাচন কমিশন তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করবে। আর একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে তাদের নিয়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে অনুযায়ী আগামী ২২ অক্টোবরের আগেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

এ লক্ষ্যে গত ২৮ জুলাই ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রাথমিক বৈঠক করেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। বুধবার সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা পাওয়ার পর নির্বাচন আয়োজনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

সবশেষ মো. সাহাবুদ্দিন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর পদত্যাগের পর সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

Download Photocard
ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন,ইসির তফসিল ঘোষণা

আপডেট : ১১:০৭:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার:: দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০২৬) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে কমিশনের এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে তফসিল অনুমোদনের পর দুপুর ২টায় নির্বাচন ভবনে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ তা ঘোষণা করেন।

বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ ও তাহমিদা আহমদ উপস্থিত ছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ দেশের বাইরে থাকায় অংশ নিতে পারেননি।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে এবং ১৮ আগস্ট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর ২০ আগস্ট সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। এছাড়া প্রার্থীর নিজস্ব সম্মতিসূচক স্বাক্ষরও থাকতে হবে।

যদি বৈধ প্রার্থী একজনই থাকেন, তাহলে তাকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। তবে একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। এরপর প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মনোনয়নপত্র জমা ও যাচাই-বাছাই হবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে।

আইনের সপ্তম ধারা অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র যাচাই শেষে যদি কেবল একজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ থাকে, তাহলে নির্বাচন কমিশন তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করবে। আর একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে তাদের নিয়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে অনুযায়ী আগামী ২২ অক্টোবরের আগেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

এ লক্ষ্যে গত ২৮ জুলাই ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রাথমিক বৈঠক করেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। বুধবার সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা পাওয়ার পর নির্বাচন আয়োজনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

সবশেষ মো. সাহাবুদ্দিন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর পদত্যাগের পর সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

Download Photocard