চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দ্রুত রামেসু বাজারে সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবী

  • প্রতিবেদক
  • আপডেট : ০৫:৪২:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৮ বার
৩০

শহীদদের স্মরণে গুইমারায় সম্মান প্রদর্শন ও স্মরণসভা।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:: “গুইমারা ছাত্র-যুবসমাজের গর্ব তিন বীর শহীদকে স্যালুট! জনগণের জন্য যারা জীবন দেন, তাদের স্মৃতি অম্লান”- এই শ্লোগানকে সামনে রেখে শহীদ আক্রই-আথুই ও থৈইচিং-এর প্রতি আনুষ্ঠানিক সম্মান প্রদর্শন ও স্মরণ সভা করেছে শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদ ও ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদ।আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং) গুইমারা রামেসু বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

স্মরনসভায় ছাত্র জনতা সংগ্রাম পরিষদ এর সভাপতি উষাতন চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদ-এর সভাপতি রুপসি চাকমা (শহীদ জুনান চাকমা’র মা), লক্ষীছড়ি ১নং ইউপি চেয়ারম্যান প্রবীল কুমার চাকমা, লক্ষীছড়ি কার্বারী এসোসিয়েশনের সভাপতি রতন বিকাশ চাকমা, সুধুঅং মারমা সাবেক মেম্বার সিন্দুকছড়ি এবং দূল্যাতলী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ত্রিলোন চাকমা।

এতে সংহতি জানিয়ে আরো বক্তব্য রাখেন, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি রেশমি মারমা। স্মরণসভা শুরুর আগে একটি চৌকস টিম তিন বীর শহীদের প্রতিকৃতি স্থাপন করেন এবং অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করা হয়। শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে শহীদ আথৈইপ্রæর’র মা নুনুমা মারমা ও শহীদ আখ্র মা ক্রাথং মারমা শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদের পক্ষ থেকে রূপসি চাকমা (শহীদ জুনানের মা) ও শহীদ রুবেলের মা শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেন।

এছাড়া ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর সংগঠক অংক্যচিং মারমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) -এর কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক অনিমেষ চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি রেশমি মারমা,গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বরুণ চাকমা, ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে উষাতন চাকমা ও অগ্রণী শিশু-কিশোর কেন্দ্রের শিশু কিশোররা অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেন।

শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে শহীদদের স্মরণে সাইরেন বাজিয়ে ২ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। নীরবতা পালন শেষে শপথ বাক্য পাঠ করান সাধারণ শিক্ষার্থী সুমনা মারমা। একই সাথে স্মরণসভায় উপস্থিত ছাত্র-জনতা সকলেই কালো ব্যাজ ধারণ করেন।

এতে বক্তারা, অতি দ্রুত শহীদ জুনান, রুবেল, অনিক, ধনঞ্জয় ও রামেসু বাজারে সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানান। ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গুইমারা রামেসু বাজার অগ্নিসংযোগ ও গুলিতে আক্রই,অথুই ও থৈচিং মারমা শহীদ হওয়ার স্মৃতি তুলে ধরে এ ঘটনায় অনেকেই আহত হন বলে জানান।

বক্তারা আরো বলেন, নানান প্রতিকুলতার মধ্যে দিয়ে আমাদের পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। যখন কোনো অন্যায় দমন-পীড়নের প্রতিবাদ করা হয় তখন সন্ত্রাসী, বিচ্ছিন্নতাবাদী তকমা দিয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন যে পার্বত্য চট্টগ্রামে শতভাগ মানবাধিকার দেয়া সম্ভব নয়। তার একটি উদাহরণ হচ্ছে গুইমারা রামেসু বাজারের ঘটনা।

এতে বক্তারা প্রতিটি ঘটনার ফিরিস্তি তুলে ধরে রামেসু বাজারের অগ্নিসংযোগ- হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান। একই সাথে খাগড়াছড়ির চিঙ্গিনালায় এক মারমা স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের সূত্র ধরে প্রতিবাদ করতে গিয়ে এ নৃশংস ঘটনা সংঘটিত হয় দাবী করে ঘটনার এক বছর অতিবাহিত হলেও ঘটনার সাথে জড়িত কাউকেই এখনো গ্রেফতার করা হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা।

স্মরণসভা থেকে আগামী ১৩ অক্টোবর ২৬, পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রথম শহীদ ভরদ্বাজ মুনি’র শহীদ দিবসে কনভেনশন অনুষ্ঠান কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয়। ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক উষাতন চাকমা এ কর্মসূচীর ঘোষণা দেন এবং কনভেনশনে সকলকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

স্মরণসভা শেষে সাংস্কৃতিক স্কোয়াডের একটি প্রতিবাদী নাট্যকলা প্রদর্শনের মাধ্যমে শহীদ আক্রই-আথুই ও থৈইচিং এর শহীদ হওয়ার ঘটনাটি উপস্থাপন করা হয়। এবং শাসকশ্রেণীর দালাল সন্তু লারমা ও ধর্ষকদের কুশপুত্তলিকা লাঠিপেটা করে তা পুড়িয়ে ফেলে অগ্রণী শিশু কিশোর কেন্দ্র (এসিসি)।

Download Photocard

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Al- Mamun

দ্রুত রামেসু বাজারে সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবী

আপডেট : ০৫:৪২:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩০

শহীদদের স্মরণে গুইমারায় সম্মান প্রদর্শন ও স্মরণসভা।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:: “গুইমারা ছাত্র-যুবসমাজের গর্ব তিন বীর শহীদকে স্যালুট! জনগণের জন্য যারা জীবন দেন, তাদের স্মৃতি অম্লান”- এই শ্লোগানকে সামনে রেখে শহীদ আক্রই-আথুই ও থৈইচিং-এর প্রতি আনুষ্ঠানিক সম্মান প্রদর্শন ও স্মরণ সভা করেছে শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদ ও ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদ।আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং) গুইমারা রামেসু বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

স্মরনসভায় ছাত্র জনতা সংগ্রাম পরিষদ এর সভাপতি উষাতন চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদ-এর সভাপতি রুপসি চাকমা (শহীদ জুনান চাকমা’র মা), লক্ষীছড়ি ১নং ইউপি চেয়ারম্যান প্রবীল কুমার চাকমা, লক্ষীছড়ি কার্বারী এসোসিয়েশনের সভাপতি রতন বিকাশ চাকমা, সুধুঅং মারমা সাবেক মেম্বার সিন্দুকছড়ি এবং দূল্যাতলী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ত্রিলোন চাকমা।

এতে সংহতি জানিয়ে আরো বক্তব্য রাখেন, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি রেশমি মারমা। স্মরণসভা শুরুর আগে একটি চৌকস টিম তিন বীর শহীদের প্রতিকৃতি স্থাপন করেন এবং অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করা হয়। শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে শহীদ আথৈইপ্রæর’র মা নুনুমা মারমা ও শহীদ আখ্র মা ক্রাথং মারমা শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদের পক্ষ থেকে রূপসি চাকমা (শহীদ জুনানের মা) ও শহীদ রুবেলের মা শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেন।

এছাড়া ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর সংগঠক অংক্যচিং মারমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) -এর কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক অনিমেষ চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি রেশমি মারমা,গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বরুণ চাকমা, ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে উষাতন চাকমা ও অগ্রণী শিশু-কিশোর কেন্দ্রের শিশু কিশোররা অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেন।

শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে শহীদদের স্মরণে সাইরেন বাজিয়ে ২ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। নীরবতা পালন শেষে শপথ বাক্য পাঠ করান সাধারণ শিক্ষার্থী সুমনা মারমা। একই সাথে স্মরণসভায় উপস্থিত ছাত্র-জনতা সকলেই কালো ব্যাজ ধারণ করেন।

এতে বক্তারা, অতি দ্রুত শহীদ জুনান, রুবেল, অনিক, ধনঞ্জয় ও রামেসু বাজারে সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানান। ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গুইমারা রামেসু বাজার অগ্নিসংযোগ ও গুলিতে আক্রই,অথুই ও থৈচিং মারমা শহীদ হওয়ার স্মৃতি তুলে ধরে এ ঘটনায় অনেকেই আহত হন বলে জানান।

বক্তারা আরো বলেন, নানান প্রতিকুলতার মধ্যে দিয়ে আমাদের পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। যখন কোনো অন্যায় দমন-পীড়নের প্রতিবাদ করা হয় তখন সন্ত্রাসী, বিচ্ছিন্নতাবাদী তকমা দিয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন যে পার্বত্য চট্টগ্রামে শতভাগ মানবাধিকার দেয়া সম্ভব নয়। তার একটি উদাহরণ হচ্ছে গুইমারা রামেসু বাজারের ঘটনা।

এতে বক্তারা প্রতিটি ঘটনার ফিরিস্তি তুলে ধরে রামেসু বাজারের অগ্নিসংযোগ- হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান। একই সাথে খাগড়াছড়ির চিঙ্গিনালায় এক মারমা স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের সূত্র ধরে প্রতিবাদ করতে গিয়ে এ নৃশংস ঘটনা সংঘটিত হয় দাবী করে ঘটনার এক বছর অতিবাহিত হলেও ঘটনার সাথে জড়িত কাউকেই এখনো গ্রেফতার করা হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা।

স্মরণসভা থেকে আগামী ১৩ অক্টোবর ২৬, পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রথম শহীদ ভরদ্বাজ মুনি’র শহীদ দিবসে কনভেনশন অনুষ্ঠান কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয়। ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক উষাতন চাকমা এ কর্মসূচীর ঘোষণা দেন এবং কনভেনশনে সকলকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

স্মরণসভা শেষে সাংস্কৃতিক স্কোয়াডের একটি প্রতিবাদী নাট্যকলা প্রদর্শনের মাধ্যমে শহীদ আক্রই-আথুই ও থৈইচিং এর শহীদ হওয়ার ঘটনাটি উপস্থাপন করা হয়। এবং শাসকশ্রেণীর দালাল সন্তু লারমা ও ধর্ষকদের কুশপুত্তলিকা লাঠিপেটা করে তা পুড়িয়ে ফেলে অগ্রণী শিশু কিশোর কেন্দ্র (এসিসি)।

Download Photocard