চট্টগ্রাম শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

অপপ্রচার,পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ষড়যন্ত্র ও ইন্ধনদাতার বিচার দাবী

  • প্রতিবেদক
  • আপডেট : ০৫:৩৯:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
  • ৬ বার

খাগড়াছড়িতে মারমা সম্প্রদায়ের সংবাদ সম্মেলন।

স্টাফ রিপোর্টার:: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মারমা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার অপপ্রচার ও সম্প্রদায়িক উসকানিসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন করেছে মারমা সম্প্রদায়। রবিবার সকালে সাড়ে ১০টায় খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাব হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে লিখিত বক্তব্যে প্রধান সনম্বয় রুমেল মারমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সম্প্রীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের মারমা জনগোষ্ঠী যুগ যুগ ধরে শান্তিপ্রিয়। স্বাধীনতা, সম্প্রীতি ও সামাজিক সহাবস্থানের প্রশ্নে মারমা জনগোষ্ঠী সবসময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। দেশের সার্বভৌমত্ব, আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় আমাদের জনগোষ্ঠীর অবদান সর্বজনস্বীকৃত।

বিশেষ করে খাগড়াছড়িতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে পার্বত্য চট্টগ্রামের বৃহত্তর মারমা সংগঠন “বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদ” দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে আসছে। উক্ত সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান বাবু ম্রাসাথোয়াই মারমা সর্বদা শান্তি, সহাবস্থান এবং উন্নয়নের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন। বর্তমানেও আমরা সেই ধারা বজায় রেখেছি।

এই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশকে বিনষ্ট করার অপচেষ্টায় একটি কুচক্রী মহল সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সেই অপতৎপরতার অংশ হিসেবে ঢাকায় বসবাসরত উগ্র সাম্প্রদায়িক মানসিকতার ব্যক্তি আবুল হোসেন ফারুক (যার ফেসবুক আইডির নাম এ এইচ এম ফারুক), পিতা-মৃত হাবিবুর রহমান, সাং-ফাতেমা নগর, পানছড়ি, খাগড়াছড়ি, ধারাবাহিকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মারমা জনগোষ্ঠী ও নেতৃবৃন্দকে জড়িয়ে মিথ্যা, বানোয়াট, উসকানিমূলক এবং বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

তার ফেসবুক টাইমলাইন ও বিভিন্ন পোস্টের মন্তব্য বিশ্লেষণ করলে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি পরিকল্পিতভাবে মারমা ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ম্রাসাথোয়াই মারমাসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন সে। কুরুচিপূর্ণ, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের নীলনকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।

সম্প্রতি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথাকথিত “আরাকান আর্মি” নামক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সাথে খাগড়াছড়ির শান্তিপ্রিয় ও আইনমান্যকারী মারমা জনগোষ্ঠী এবং আমাদের নেতৃবৃন্দকে জড়িয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত তথ্য প্রকাশ করেছেন। এটি শুধু একটি মিথ্যাচার নয়, বরং রাষ্ট্রবিরোধী উসকানি এবং পার্বত্যাঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা।

মারমা জনগোষ্ঠী কখনোই কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাÐকে সমর্থন করে না এবং করবে না। বাংলাদেশের সংবিধান, আইন এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল যদি বারবার মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে আমাদের সম্মান, আত্মমর্যাদা ও সামাজিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালায়, তাহলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

ষড়যন্ত্রকারীদের অপতৎপরতা প্রতিহত করার সক্ষমতাও রাখে মারমা সম্প্রদায়। তাই প্রশাসনের প্রতি ৪ দফা দাবি তুলে ধরা হয় এতে। দাবী সমূহ-অবিলম্বে আবুল হোসেন ফারুককে আইনের আওতায় আনতে হবে। তার অপপ্রচারের নেপথ্যে কারা জড়িত, তা তদন্তপূর্বক প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী বিভ্রান্তি ছড়ানোর দায়ে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পার্বত্যাঞ্চলের শান্তি ও সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। নইলে খাগড়াছড়িতে শান্তিপ্রিয় মারমা জনগোষ্ঠীকে সাথে নিয়ে “বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদ” কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার ঘোষনা দেন।

Download Photocard

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

অপপ্রচার,পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ষড়যন্ত্র ও ইন্ধনদাতার বিচার দাবী

আপডেট : ০৫:৩৯:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

খাগড়াছড়িতে মারমা সম্প্রদায়ের সংবাদ সম্মেলন।

স্টাফ রিপোর্টার:: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মারমা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার অপপ্রচার ও সম্প্রদায়িক উসকানিসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন করেছে মারমা সম্প্রদায়। রবিবার সকালে সাড়ে ১০টায় খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাব হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে লিখিত বক্তব্যে প্রধান সনম্বয় রুমেল মারমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সম্প্রীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের মারমা জনগোষ্ঠী যুগ যুগ ধরে শান্তিপ্রিয়। স্বাধীনতা, সম্প্রীতি ও সামাজিক সহাবস্থানের প্রশ্নে মারমা জনগোষ্ঠী সবসময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। দেশের সার্বভৌমত্ব, আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় আমাদের জনগোষ্ঠীর অবদান সর্বজনস্বীকৃত।

বিশেষ করে খাগড়াছড়িতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে পার্বত্য চট্টগ্রামের বৃহত্তর মারমা সংগঠন “বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদ” দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে আসছে। উক্ত সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান বাবু ম্রাসাথোয়াই মারমা সর্বদা শান্তি, সহাবস্থান এবং উন্নয়নের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন। বর্তমানেও আমরা সেই ধারা বজায় রেখেছি।

এই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশকে বিনষ্ট করার অপচেষ্টায় একটি কুচক্রী মহল সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সেই অপতৎপরতার অংশ হিসেবে ঢাকায় বসবাসরত উগ্র সাম্প্রদায়িক মানসিকতার ব্যক্তি আবুল হোসেন ফারুক (যার ফেসবুক আইডির নাম এ এইচ এম ফারুক), পিতা-মৃত হাবিবুর রহমান, সাং-ফাতেমা নগর, পানছড়ি, খাগড়াছড়ি, ধারাবাহিকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মারমা জনগোষ্ঠী ও নেতৃবৃন্দকে জড়িয়ে মিথ্যা, বানোয়াট, উসকানিমূলক এবং বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

তার ফেসবুক টাইমলাইন ও বিভিন্ন পোস্টের মন্তব্য বিশ্লেষণ করলে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি পরিকল্পিতভাবে মারমা ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ম্রাসাথোয়াই মারমাসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন সে। কুরুচিপূর্ণ, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের নীলনকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।

সম্প্রতি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথাকথিত “আরাকান আর্মি” নামক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সাথে খাগড়াছড়ির শান্তিপ্রিয় ও আইনমান্যকারী মারমা জনগোষ্ঠী এবং আমাদের নেতৃবৃন্দকে জড়িয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত তথ্য প্রকাশ করেছেন। এটি শুধু একটি মিথ্যাচার নয়, বরং রাষ্ট্রবিরোধী উসকানি এবং পার্বত্যাঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা।

মারমা জনগোষ্ঠী কখনোই কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাÐকে সমর্থন করে না এবং করবে না। বাংলাদেশের সংবিধান, আইন এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল যদি বারবার মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে আমাদের সম্মান, আত্মমর্যাদা ও সামাজিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালায়, তাহলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

ষড়যন্ত্রকারীদের অপতৎপরতা প্রতিহত করার সক্ষমতাও রাখে মারমা সম্প্রদায়। তাই প্রশাসনের প্রতি ৪ দফা দাবি তুলে ধরা হয় এতে। দাবী সমূহ-অবিলম্বে আবুল হোসেন ফারুককে আইনের আওতায় আনতে হবে। তার অপপ্রচারের নেপথ্যে কারা জড়িত, তা তদন্তপূর্বক প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রবিরোধী বিভ্রান্তি ছড়ানোর দায়ে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পার্বত্যাঞ্চলের শান্তি ও সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। নইলে খাগড়াছড়িতে শান্তিপ্রিয় মারমা জনগোষ্ঠীকে সাথে নিয়ে “বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদ” কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার ঘোষনা দেন।

Download Photocard