স্টাফ রিপাের্টার:: পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত পিছিয়ে পড়া ৫৪ শতাংশ বাঙালির জন্য সরকারি চাকরি, শিক্ষা ও ব্যবসায় কোটা সুবিধা এবং বাজার ফান্ড এলাকার বন্ধ থাকা ব্যাংক ঋণ কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ, খাগড়াছড়ি জেলা শাখা।
সোমবার (৬ জুলাই ২০২৬) খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের জেলা আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুল মজিদ।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চলতি বাজেটে পার্বত্য চট্টগ্রামের সব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে আয়কর অব্যাহতির সুবিধা দেওয়া হলেও একই অঞ্চলে বসবাসরত প্রায় ৫৪ শতাংশ বাঙালি জনগোষ্ঠী বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। তারা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা ও ভূমি ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাঙালিরা বঞ্চিত হয়ে আসছে।
সংগঠনটির দাবি, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির পর উপজাতিদের জন্য বিভিন্ন ধরনের কোটা, সরকারি বরাদ্দ, এনজিও সহায়তা ও কর অব্যাহতির মতো নানা সুবিধা চালু হলেও সমতাভিত্তিক নীতি অনুসরণ করা হয়নি। ফলে পার্বত্য অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য আরও বেড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের বাজারফান্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ব্যাংক ঋণ কার্যক্রম ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই পূর্বের নিয়মে বাজারফান্ড এলাকায় ব্যাংক ঋণ কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবি জানানো হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সমতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা ও অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বাঙালিদের জন্যও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালিদের আয়কর অব্যাহতি, বাজারফান্ডে ব্যাংক ঋণ চালু এবং বৈষম্য নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের জেলা কমিটির সদস্য শাহাদাত হোসেন, এরশাদ হোসেন,পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদক 







