খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জীতেন বড়ুয়ার মুক্তি দাবি


বার্তা বিভাগ প্রকাশের সময় : মে ৮, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ /
খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জীতেন বড়ুয়ার মুক্তি দাবি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:: খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক জীতেন বড়ুয়ার মুক্তি দাবি করেছে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্ট (আইএফজে), দক্ষিন এশিয়া সাংবাদিক ফেডারেশন ও বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) নেতৃবৃন্দরা। নেতৃবৃন্দরা এ মিথ্যা ও হয়রানীমূলক মামলায় আটক সাংবাদিক জিতেন বড়ুয়ার অবিলম্বে নিঃশত মুক্তি দাবি করেছেন।

সেই সাথে খাগড়াছড়িসহ অন্যান্য সকল সাংবাদিকের মিথ্যা ও হয়রানীমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনগুলো। আজ শুক্রবার বিএমএসএফের মহাসচিব খায়রুজ্জামান কামাল স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

উল্লেখ্য, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জীতেন বড়ুয়াকে গতকাল বৃহস্পতিবার (০৭ মে ২০২৬) সন্ধ্যা সাতটার দিকে শহরের শাপলা চত্ত¡র থেকে সদর থানা পুলিশ আটক করেছে। তিনি সময় টিভি,বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) এবং জনকণ্ঠে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটর সাইকেলে চলার সময় দুইজন সাদা পোশাকের পুলিশ ওনাকে টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তুলতে দেখা গেছে। খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি মো. কায় কিসলু স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জীতেন বড়ুয়ার বিরুদ্ধে বিগত ড. ইউনুস সরকারের অন্তর্বতী সরকারের সময় দায়ের পাঁচটি জিআর মামলা রয়েছে। গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে আটক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, জীতেন বড়ুয়ার বিরুদ্ধে রুজু হওয়া পাঁচটি মামলার মধ্যে চারটিই হলো পাঁচ-সাত বছর আগে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘটিত ঘটনার মামলা। আর একটি হলো, ৪ আগস্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের ওপর হামলার অভিযোগের মামলা।

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, মূলত: খাগড়াছড়ির একজন রাজনৈতিক নেতার ইন্ধনে খাগড়াছড়ি জেলাশহর, ঢাকা, চট্টগ্রামে কর্মরত পেশাদার একডজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে সর্বোচ্চ একডজন পর্যন্ত মামলা রুজু করান।

এ সব মামলা সুকৌশলে বিএনপি নেতাদের বাদী করে পুলিশকে প্রভাবিত করে জিআর মামলা হিসেবে তালিকাভূক্ত করান। এরমধ্যে ২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর খাগড়াছড়ি সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও সমকাল প্রতিনিধি প্রদীপ চৌধুরীকে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে ‘মব’ করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।

পাঁচ মাসের মাথায় প্রদীপ চৌধুরী নিম্ন আদালতে বার বার আবেদন করেও জামিন না পেয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হন। কিন্তু সাড়ে পাঁচ মাসের মাথায় ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়য়ারর মাধ্যমে জামিন লাভ করলেও কারামুক্ত হতে পারেননি। তাঁকে উপুর্যপরি আরো পাঁচটি মামলা দিয়ে সাড়ে নয় মাস জেল খাটতে বাধ্য করেন। এছাড়া এখনো খাগড়াছড়ির সাংবাদিকরা কেউ মামলার ভয়ে কেউ হামলার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

ঢাকার সাংবাদিক মামুন আব্দুল্লাহকেও খাগড়াছড়ির মামলায় আসামী করা হয়েছে। এছাড়া মামলাভূক্ত অন্যান্য সাংবাদিকদের মধ্যে যমুনা টিভির শাহরিয়ার ইউনুছ, কালের কণ্ঠ ও এটিএন বাংলার আবু দাউদ, দেশ টিভির অপু দত্ত এবং ভোরের কাগজের শঙ্কর চৌধুরী কঠিন সময় পার করছেন। আর একটি চাঁদাবাজির অভিযোগে আজকের পত্রিকার চট্টগ্রাম অফিসের স্টাফ রিপোর্টার আবু বক্কর সিদ্দিক, রামগড় উপজেলা

প্রতিনিধি বেলাল হোসেন এবং দীঘিনালা প্রতিনিধি আকতার হোসেন পিবিআই’র তদন্তে রেহাই পান। এই মামলায় কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার দুই সাংবাদিকসহ খাগড়াছড়ির আরো দুই সাংবাদিক চারমাস জেল খাটেন।