চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

বাঁশের পিরামিডে নান্দনিক প্রদর্শনী আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু

  • প্রতিবেদক
  • আপডেট : ০৩:৪৭:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • ৩ বার

মো.এনামুল হক,স্টাফ রিপোর্টার:: ষড়ঋতুর দেশ আমা‌দের বাংলা‌দেশ। ঋতু চ‌ক্রের আব‌র্তে এখন বসন্ত কা‌ল। প্রকৃতি নতুন রূপে সাজে ফুটে ওঠে নানা রঙের ফুল । কোকিলের কুহুতান আর মৃদু সমীর‌নে ভেসে আসে ফু‌লের সৌরভ। আধো আধো শীত গর‌মে আলো-ছায়ার খেলায় চারিদিক ভরে উঠে ফুলর পাপ‌ড়ি‌তে। প্রকৃতির এই রঙিন পরিবর্তনে পাহাড় জেগে উঠে নব যৌব‌নে।

পাহাড়ের কোলঘেঁষা সবুজ জনপদ মাটিরাঙ্গায় ব্যতিক্রমী পুষ্পশৈলীতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে মাটিরাঙ্গা উপজেলা হর্টিকালচার সেন্টার। প্রথাগত সারিবদ্ধ চাষাবাদের বাইরে গিয়ে পাঁচ স্তরের বাঁশের পিরামিডে গাঁদা ফুলের নান্দনিক প্রদর্শনী এখন দর্শনার্থী ও কৃষিপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শুরু হওয়া এই সৃজনশীল উদ্যোগে পাহাড়ের ঢালে নির্মাণ করা হয়েছে ধাপে ধাপে উঁচু পাঁচটি স্তর। নিজস্ব জমিতে উৎপাদিত বাঁশ সংগ্রহ করে পিরামিড আকৃতির কাঠামো তৈরি করা হয়। প্রতিটি স্তরে ভার্মিকম্পোস্ট, ট্রাইকোকম্পোস্ট, গোবর, ডিএপি ও পটাশ সারের সমন্বয়ে উর্বর মাটি ভরাট করে রোপণ করা হয়েছে প্রায় সাড়ে তিনশ’ গাঁদা চারা ও ১২টি রেড সেলভিয়া।

ইনকা অরেঞ্জ, ইনকা ইয়েলো, আফ্রিকান গাঁদা, ফায়ারবল ও মেরিগোল্ডের সোনালি-কমলা আভা, তার সঙ্গে লাল সেলভিয়ার সংযোজন সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে রঙের মনোমুগ্ধকর স্তরবিন্যাস। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, পাহাড়ের বুক চিরে আকাশের দিকে উঠে গেছে এক পুষ্পমিনার।

স্থানীয় দর্শনার্থীরা জানান, এমন পরিকল্পিত ফুলের প্রদর্শনী মাটিরাঙ্গায় আগে দেখা যায়নি। পরিবার নিয়ে ঘুরে দেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি একটি বাস্তব শিক্ষণীয় পরিবেশ তৈরি করেছে।

মাটিরাঙ্গা উদ্যানতত্ত্ববিদ মো.আব্দুল্লাহ আল মাসুম জানান, “সৌন্দর্যের পাশাপাশি পরিকল্পিত ফুলচাষের একটি প্রদর্শনী গড়ে তোলাই ছিল লক্ষ্য। স্বল্প জায়গায় নান্দনিক ও বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক চাষাবাদের একটি মডেল দাঁড় করাতে চেয়েছি। পুরো বাগানজুড়ে রয়েছে ডাবল পেটাল হলিহক, হাইব্রিড সেলভিয়া, ন্যাস্টারশিয়াম,পপি,ডালিয়া,ক্যালেন্ডুলা, পিটুনিয়া, সেলোসিয়া, গেইলার্ডিয়াসহ নানা প্রজাতির ফুল। ১০টি প্রজাতির গোলাপও শোভা বাড়িয়েছে বাগানে।

সু-শৃঙ্খল বেড বিন্যাস, রঙের সামঞ্জস্য ও নিয়মিত পরিচর্যায় কেন্দ্রটি এখন সৌন্দর্যচর্চা ও প্রশিক্ষণের প্রাণবন্ত স্থানে পরিণত হয়েছে। পাহা‌ড়ি জনপদ মাটিরাঙ্গায় ফু‌লের এমন সমা‌রোহ এখন প্রকৃতি ও মানুষের সৃজনশীলতার এক উজ্জ্বল প্রতীক। প্রকৃ‌তির কাছাকাছি এমন একটি সুন্দর ও পরিকল্পিত উদ্যোগ স‌ত্যিই দৃষ্টিনন্দন ও প্রশংসনীয়।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাঁশের পিরামিডে নান্দনিক প্রদর্শনী আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু

আপডেট : ০৩:৪৭:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

মো.এনামুল হক,স্টাফ রিপোর্টার:: ষড়ঋতুর দেশ আমা‌দের বাংলা‌দেশ। ঋতু চ‌ক্রের আব‌র্তে এখন বসন্ত কা‌ল। প্রকৃতি নতুন রূপে সাজে ফুটে ওঠে নানা রঙের ফুল । কোকিলের কুহুতান আর মৃদু সমীর‌নে ভেসে আসে ফু‌লের সৌরভ। আধো আধো শীত গর‌মে আলো-ছায়ার খেলায় চারিদিক ভরে উঠে ফুলর পাপ‌ড়ি‌তে। প্রকৃতির এই রঙিন পরিবর্তনে পাহাড় জেগে উঠে নব যৌব‌নে।

পাহাড়ের কোলঘেঁষা সবুজ জনপদ মাটিরাঙ্গায় ব্যতিক্রমী পুষ্পশৈলীতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে মাটিরাঙ্গা উপজেলা হর্টিকালচার সেন্টার। প্রথাগত সারিবদ্ধ চাষাবাদের বাইরে গিয়ে পাঁচ স্তরের বাঁশের পিরামিডে গাঁদা ফুলের নান্দনিক প্রদর্শনী এখন দর্শনার্থী ও কৃষিপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শুরু হওয়া এই সৃজনশীল উদ্যোগে পাহাড়ের ঢালে নির্মাণ করা হয়েছে ধাপে ধাপে উঁচু পাঁচটি স্তর। নিজস্ব জমিতে উৎপাদিত বাঁশ সংগ্রহ করে পিরামিড আকৃতির কাঠামো তৈরি করা হয়। প্রতিটি স্তরে ভার্মিকম্পোস্ট, ট্রাইকোকম্পোস্ট, গোবর, ডিএপি ও পটাশ সারের সমন্বয়ে উর্বর মাটি ভরাট করে রোপণ করা হয়েছে প্রায় সাড়ে তিনশ’ গাঁদা চারা ও ১২টি রেড সেলভিয়া।

ইনকা অরেঞ্জ, ইনকা ইয়েলো, আফ্রিকান গাঁদা, ফায়ারবল ও মেরিগোল্ডের সোনালি-কমলা আভা, তার সঙ্গে লাল সেলভিয়ার সংযোজন সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে রঙের মনোমুগ্ধকর স্তরবিন্যাস। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, পাহাড়ের বুক চিরে আকাশের দিকে উঠে গেছে এক পুষ্পমিনার।

স্থানীয় দর্শনার্থীরা জানান, এমন পরিকল্পিত ফুলের প্রদর্শনী মাটিরাঙ্গায় আগে দেখা যায়নি। পরিবার নিয়ে ঘুরে দেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি একটি বাস্তব শিক্ষণীয় পরিবেশ তৈরি করেছে।

মাটিরাঙ্গা উদ্যানতত্ত্ববিদ মো.আব্দুল্লাহ আল মাসুম জানান, “সৌন্দর্যের পাশাপাশি পরিকল্পিত ফুলচাষের একটি প্রদর্শনী গড়ে তোলাই ছিল লক্ষ্য। স্বল্প জায়গায় নান্দনিক ও বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক চাষাবাদের একটি মডেল দাঁড় করাতে চেয়েছি। পুরো বাগানজুড়ে রয়েছে ডাবল পেটাল হলিহক, হাইব্রিড সেলভিয়া, ন্যাস্টারশিয়াম,পপি,ডালিয়া,ক্যালেন্ডুলা, পিটুনিয়া, সেলোসিয়া, গেইলার্ডিয়াসহ নানা প্রজাতির ফুল। ১০টি প্রজাতির গোলাপও শোভা বাড়িয়েছে বাগানে।

সু-শৃঙ্খল বেড বিন্যাস, রঙের সামঞ্জস্য ও নিয়মিত পরিচর্যায় কেন্দ্রটি এখন সৌন্দর্যচর্চা ও প্রশিক্ষণের প্রাণবন্ত স্থানে পরিণত হয়েছে। পাহা‌ড়ি জনপদ মাটিরাঙ্গায় ফু‌লের এমন সমা‌রোহ এখন প্রকৃতি ও মানুষের সৃজনশীলতার এক উজ্জ্বল প্রতীক। প্রকৃ‌তির কাছাকাছি এমন একটি সুন্দর ও পরিকল্পিত উদ্যোগ স‌ত্যিই দৃষ্টিনন্দন ও প্রশংসনীয়।”