আপডেট :
১০:০৩:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
৩০
বার
জুলাই কারও একার নয়, এটি সম্মিলিত অর্জন: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার:: 'জুলাই কারও একার নয়, গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্বও কোনো ব্যক্তি, দল বা সংগঠনের একার নয়। এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের ফসল। জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত জুলাই শহীদ দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনিন্দ ইসলাম অমিত বলেন, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণেই স্পষ্টভাবে বলেছেন, 'জুলাই কারও একার নয়। গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্বও কারও একার নয়। এটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা নেতার নয়; বরং দেশের গণতান্ত্রিক মুক্তিকামী মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।' তিনি বলেন, এ কারণেই আজ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী, তারেক রহমান কিংবা বিএনপির কোনো দায়িত্বশীল নেতা জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিজেদের বলে দাবি করেননি। কারণ এই আন্দোলনে অসংখ্য মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, অনেকেই আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করাই সবার দায়িত্ব। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা। কিন্তু বর্তমানে আবারও মানুষকে অপমান-অপদস্থ করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশের চেতনা কখনোই বিদ্বেষ, অপমান কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণকে সমর্থন করে না।রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বজায় রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে যেসব ঘটনা মানুষের মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে, সেসবের পুনরাবৃত্তি দেশের মানুষ দেখতে চায় না। একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সব রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম নির্দেশনার কথা তুলে ধরে অনিন্দ ইসলাম অমিত বলেন, প্রশাসনের কাউকে বিএনপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে কাজ করার প্রয়োজন নেই। তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা হিসেবে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও জনগণের সেবার মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। এটিই দেশের মানুষের প্রত্যাশা। জুলাই শহীদ দিবসে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশ গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারী সকলের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ— প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে রাষ্ট্র থাকবে। তিনি বলেন, এককভাবে দেশ গড়ার কোনো চিন্তা সরকারের নেই। রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবীসহ সমাজের সব শক্তিকে সঙ্গে নিয়েই নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। এর আগে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ মাঠে স্থাপিত জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত। বক্তব্য দেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুঁইয়া, পুলিশ সুপার মোর্তজা আলীসহ অন্যান্য অতিথিরা। সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুঁইয়া বলেন, দেশের মানুষ গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো স্বৈরশাসকের উত্থান না ঘটে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, 'জুলাইয়ের চেতনাকে কেউ যেন ব্যক্তিস্বার্থ বা রাজনৈতিক স্বার্থে অপব্যবহার না করে।'
৩৪
স্টাফ রিপোর্টার:: ‘জুলাই কারও একার নয়, গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্বও কোনো ব্যক্তি, দল বা সংগঠনের একার নয়। এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের ফসল। জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত জুলাই শহীদ দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনিন্দ ইসলাম অমিত বলেন, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণেই স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘জুলাই কারও একার নয়। গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্বও কারও একার নয়। এটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা নেতার নয়; বরং দেশের গণতান্ত্রিক মুক্তিকামী মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।’
তিনি বলেন, এ কারণেই আজ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী, তারেক রহমান কিংবা বিএনপির কোনো দায়িত্বশীল নেতা জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিজেদের বলে দাবি করেননি। কারণ এই আন্দোলনে অসংখ্য মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, অনেকেই আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করাই সবার দায়িত্ব।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা। কিন্তু বর্তমানে আবারও মানুষকে অপমান-অপদস্থ করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশের চেতনা কখনোই বিদ্বেষ, অপমান কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণকে সমর্থন করে না।রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বজায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে যেসব ঘটনা মানুষের মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে, সেসবের পুনরাবৃত্তি দেশের মানুষ দেখতে চায় না। একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সব রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম নির্দেশনার কথা তুলে ধরে অনিন্দ ইসলাম অমিত বলেন, প্রশাসনের কাউকে বিএনপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে কাজ করার প্রয়োজন নেই। তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা হিসেবে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও জনগণের সেবার মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। এটিই দেশের মানুষের প্রত্যাশা।
জুলাই শহীদ দিবসে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশ গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারী সকলের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ— প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে রাষ্ট্র থাকবে।
তিনি বলেন, এককভাবে দেশ গড়ার কোনো চিন্তা সরকারের নেই। রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবীসহ সমাজের সব শক্তিকে সঙ্গে নিয়েই নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। এর আগে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ মাঠে স্থাপিত জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত। বক্তব্য দেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুঁইয়া, পুলিশ সুপার মোর্তজা আলীসহ অন্যান্য অতিথিরা। সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুঁইয়া বলেন, দেশের মানুষ গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো স্বৈরশাসকের উত্থান না ঘটে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের চেতনাকে কেউ যেন ব্যক্তিস্বার্থ বা রাজনৈতিক স্বার্থে অপব্যবহার না করে।’