চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রীজ না থাকায় দুর্ভোগে ১০ গ্রামের বাসিন্দারা

  • প্রতিবেদক
  • আপডেট : ০৪:০১:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬১ বার
৮২

স্টাফ রিপোর্টার:: খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার মোহাম্মদপুর বড়ঝলা এলাকায় ধলিয়া খালের ওপর ব্রীজ না থাকায় দুর্ভোগে পোহাচ্ছেন ১০টি গ্রামের বাসিন্দারা। হাসপাতাল সড়ক সংলগ্ন খালের ওপর নির্মিত নড়বড়ে কাঠের ঝুলন্ত সেতুই যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু দিয়ে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, বয়স্ক মানুষ, গর্ভবতী নারীসহ সাধারণ মানুষ চলাচল করছেন।

বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলে খালের পানি বেড়ে গেলে সেতুটি ভেসে যায় বা পানির নিচে তলিয়ে থাকে। পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে অস্থায়ীভাবে পুনরায় মেরামত করা হলেও কয়েকদিন পর আবারও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনেক সময় সেতুর পাটাতন দেবে গিয়ে শিশু ও বয়স্করা পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। বর্ষাকালে খালের পানি বেড়ে গেলে ওপারের মানুষ বাজারে আসতে পারেন না, প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নিত্যপণ্য সংগ্রহেও ভোগান্তিতে পড়েন।

মোহাম্মদপুর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আব্দুল হাই ভূইয়া বলেন, আমরা বছরের পর বছর এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে চলাচল করছি। বর্ষা এলেই সেতু ভেসে যায় বা পানির নিচে চলে যায়। অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নেওয়া, শিশুদের স্কুলে পাঠানো সবকিছুই তখন বন্ধ হয়ে যায়।

তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া সুমাইয়া বলেছে, সেতুর উপর দিয়ে হাঁটলে সেতুটি দুলতে থাকে। আমাদের ভয় হয়। বেশি বৃষ্টি হলে খালের পানি বেড়ে গেলে আমরা আর স্কুলে যেতে পারি না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। মোহাম্মদপুর, রসুলপুর, বড়ঝলা, ছনখোলা পাড়া, আটবাড়ি, তৈকাতান, মিস্ত্রিপাড়াসহ আশপাশের ১০-১২টি গ্রামের মানুষ প্রতিনিয়ত এই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতু বলেন, ধলিয়া খালের ওপর ঝুলন্ত সেতু দিয়ে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। নদীর ওপারের বাসিন্দাদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা হবে।

Download Photocard

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Al- Mamun

সর্বত্র নারীর পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে: নীতি চাকমা

ব্রীজ না থাকায় দুর্ভোগে ১০ গ্রামের বাসিন্দারা

আপডেট : ০৪:০১:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
৮২

স্টাফ রিপোর্টার:: খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার মোহাম্মদপুর বড়ঝলা এলাকায় ধলিয়া খালের ওপর ব্রীজ না থাকায় দুর্ভোগে পোহাচ্ছেন ১০টি গ্রামের বাসিন্দারা। হাসপাতাল সড়ক সংলগ্ন খালের ওপর নির্মিত নড়বড়ে কাঠের ঝুলন্ত সেতুই যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু দিয়ে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, বয়স্ক মানুষ, গর্ভবতী নারীসহ সাধারণ মানুষ চলাচল করছেন।

বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলে খালের পানি বেড়ে গেলে সেতুটি ভেসে যায় বা পানির নিচে তলিয়ে থাকে। পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে অস্থায়ীভাবে পুনরায় মেরামত করা হলেও কয়েকদিন পর আবারও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনেক সময় সেতুর পাটাতন দেবে গিয়ে শিশু ও বয়স্করা পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। বর্ষাকালে খালের পানি বেড়ে গেলে ওপারের মানুষ বাজারে আসতে পারেন না, প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নিত্যপণ্য সংগ্রহেও ভোগান্তিতে পড়েন।

মোহাম্মদপুর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আব্দুল হাই ভূইয়া বলেন, আমরা বছরের পর বছর এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে চলাচল করছি। বর্ষা এলেই সেতু ভেসে যায় বা পানির নিচে চলে যায়। অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নেওয়া, শিশুদের স্কুলে পাঠানো সবকিছুই তখন বন্ধ হয়ে যায়।

তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া সুমাইয়া বলেছে, সেতুর উপর দিয়ে হাঁটলে সেতুটি দুলতে থাকে। আমাদের ভয় হয়। বেশি বৃষ্টি হলে খালের পানি বেড়ে গেলে আমরা আর স্কুলে যেতে পারি না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। মোহাম্মদপুর, রসুলপুর, বড়ঝলা, ছনখোলা পাড়া, আটবাড়ি, তৈকাতান, মিস্ত্রিপাড়াসহ আশপাশের ১০-১২টি গ্রামের মানুষ প্রতিনিয়ত এই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতু বলেন, ধলিয়া খালের ওপর ঝুলন্ত সেতু দিয়ে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। নদীর ওপারের বাসিন্দাদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা হবে।

Download Photocard