চট্টগ্রাম বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রাম বোর্ড অধীনস্থ সব জেলার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত

  • প্রতিবেদক
  • আপডেট : ০১:৪৮:২৫ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • ১২ বার

বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) সব জেলার বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার:: বৈরী আবহাওয়া ও চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার বুধবারের (৮ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গভীর রাতে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর আগে, সোমবার (৬ জুলাই) রাতে পৃথক আদেশে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও কক্সবাজার জেলার বুধবারের পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম বোর্ডের বাইরে দেশের অন্যান্য সব শিক্ষা বোর্ডে বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষার নতুন তারিখ ও সময়সূচি পরে জানানো হবে।

এদিকে টানা দুই দিনের অতি ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতা ও বন্যার কবলে পড়েছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম নগরীতে ৩৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত ৪৩ বছরে জুলাই মাসের এক দিনে সর্বোচ্চ।

ভারী বর্ষণে দেয়াল ও পাহাড়ধসে চট্টগ্রাম নগর, রাঙ্গুনিয়া, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি এবং কক্সবাজারে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যা ও ভূমিধসে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং বহু অভ্যন্তরীণ গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে আকাশ ও রেল যোগাযোগেও। চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটি ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি। অন্যদিকে রেললাইনের ওপর পানি জমে যাওয়ায় প্রায় এক হাজার যাত্রী নিয়ে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর এলাকায় আটকে পড়ে।

দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কক্সবাজার জেলা। গত দুই দিনের ভারী বৃষ্টিতে উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরে ১৯৩টি ছোট-বড় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সদর উপজেলা, টেকনাফ, রামু, মহেশখালী, চকরিয়া ও পেকুয়াসহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার শতাধিক গ্রাম এখনো পানির নিচে রয়েছে।

Download Photocard

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

চট্টগ্রাম বোর্ড অধীনস্থ সব জেলার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত

আপডেট : ০১:৪৮:২৫ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) সব জেলার বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার:: বৈরী আবহাওয়া ও চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার বুধবারের (৮ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গভীর রাতে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর আগে, সোমবার (৬ জুলাই) রাতে পৃথক আদেশে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও কক্সবাজার জেলার বুধবারের পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম বোর্ডের বাইরে দেশের অন্যান্য সব শিক্ষা বোর্ডে বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষার নতুন তারিখ ও সময়সূচি পরে জানানো হবে।

এদিকে টানা দুই দিনের অতি ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতা ও বন্যার কবলে পড়েছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম নগরীতে ৩৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত ৪৩ বছরে জুলাই মাসের এক দিনে সর্বোচ্চ।

ভারী বর্ষণে দেয়াল ও পাহাড়ধসে চট্টগ্রাম নগর, রাঙ্গুনিয়া, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি এবং কক্সবাজারে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যা ও ভূমিধসে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং বহু অভ্যন্তরীণ গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে আকাশ ও রেল যোগাযোগেও। চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটি ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি। অন্যদিকে রেললাইনের ওপর পানি জমে যাওয়ায় প্রায় এক হাজার যাত্রী নিয়ে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর এলাকায় আটকে পড়ে।

দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কক্সবাজার জেলা। গত দুই দিনের ভারী বৃষ্টিতে উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরে ১৯৩টি ছোট-বড় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সদর উপজেলা, টেকনাফ, রামু, মহেশখালী, চকরিয়া ও পেকুয়াসহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার শতাধিক গ্রাম এখনো পানির নিচে রয়েছে।

Download Photocard