চট্টগ্রাম শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

রামগড়ে একটি বিদ্যালয়ের পাশ করেনি কেউ

  • প্রতিবেদক
  • আপডেট : ১০:৩০:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • ২৭ বার
৩৮

প্রতিনিধি রামগড়:: খাগড়াছড়ির রামগড়ে এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬ এর ফলাফলে খাগড়াবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই পাশ করেনি। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৬ জন শিক্ষার্থী ২০২৬ এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। চলতি শিক্ষাবর্ষের ১০ জন ও গত শিক্ষা বর্ষের ৬ জন। তবে ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের মধ্যে একজন শিক্ষার্থীও পাশ করতে পারেনি।

প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, উপজেলায় সাতটি বিদ্যালয় এবং দুইটি মাদ্রাসায় ৫১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০৯ জন পাস করেছে। স্কুলে পাসের হার প্রায় ৩২ শতাংশ ও মাদ্রাসায় ৯৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। সবচেয়ে খারাপ ফল দেখা গেছে চৌধুরীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সেখানে ৭৩ জনের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৯ জন। ভালো করেছে রামগড় গণিয়াতুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা সেখানে ৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫২ জন পাস করেছে।

শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বোর্ড পরীক্ষার নিবন্ধন (ইন নম্বর) না থাকায় খাগড়াবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষারা চৌধুরীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ও রামগড় আইডিয়াল স্কুলের পরীক্ষার্থীরা বলিপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ও নাকাপা দাখিল মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীরা রামগড় গণিয়াতুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন।

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আবু মুছা বলেন, ঐতিজ্যবাহী এই বিদ্যালয়ে ব্যাপক অর্জন রয়েছে। এ কয়েক বছর প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং ধন্ধে বিদ্যালয়
টির পাঠদান কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে। প্রতিবাদে গত বছর ক্লাস বর্জন করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ-মিছিল করতে দেখা গেছে।

খাগড়াবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খুরশিদ আলম অভিভাবকদের উপর দোষ চাপিয়ে বলেন, শিক্ষকরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে তবে অভিভাবকরা আন্তরিক নয়, তারা কখনো বিদ্যালয়ে আসেন না, অভিবাবক সমাবেশ দিলেও অনুপস্থিত থাকেন। এমনকি বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে রেজিষ্ট্রেশন করে কয়েক শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নিতে সুযোগ করে দেয়া হয়। তবে তিনি শিক্ষকদের মধ্যে পারস্পারিক শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধে ঘাটতীর বিষয়টি স্বীকার করেন।

খাগড়াবিল শিক্ষা উন্নয়ন কমিটির আহবায়ক ও বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ডা: মোস্তফা কামাল বিদ্যালটির ১৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা চরম হতাশা হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে এবারই প্রথম ভরাডুবি ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং ও পারস্পারিক সহযোগীতা সদ্ধাবোধ না থাকা ও অভিভাবকদের যথাযথ তৎপরতা না থাকাকে খারাপ ফলাফলের জন্যে দায়ী করেন।

রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কাজী শামীম জানান, প্রধান শিক্ষকের সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। বিদ্যালয়টিতে এবার সবচেয়ে বেশি উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে। তারপরও ফলাফলে অকৃতকার্যের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানান।

Download Photocard

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Al- Mamun

আলোচিত

রামগড়ে একটি বিদ্যালয়ের পাশ করেনি কেউ

আপডেট : ১০:৩০:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
৩৮

প্রতিনিধি রামগড়:: খাগড়াছড়ির রামগড়ে এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬ এর ফলাফলে খাগড়াবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই পাশ করেনি। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৬ জন শিক্ষার্থী ২০২৬ এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। চলতি শিক্ষাবর্ষের ১০ জন ও গত শিক্ষা বর্ষের ৬ জন। তবে ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের মধ্যে একজন শিক্ষার্থীও পাশ করতে পারেনি।

প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, উপজেলায় সাতটি বিদ্যালয় এবং দুইটি মাদ্রাসায় ৫১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০৯ জন পাস করেছে। স্কুলে পাসের হার প্রায় ৩২ শতাংশ ও মাদ্রাসায় ৯৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। সবচেয়ে খারাপ ফল দেখা গেছে চৌধুরীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সেখানে ৭৩ জনের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৯ জন। ভালো করেছে রামগড় গণিয়াতুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা সেখানে ৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫২ জন পাস করেছে।

শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বোর্ড পরীক্ষার নিবন্ধন (ইন নম্বর) না থাকায় খাগড়াবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষারা চৌধুরীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ও রামগড় আইডিয়াল স্কুলের পরীক্ষার্থীরা বলিপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ও নাকাপা দাখিল মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীরা রামগড় গণিয়াতুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন।

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আবু মুছা বলেন, ঐতিজ্যবাহী এই বিদ্যালয়ে ব্যাপক অর্জন রয়েছে। এ কয়েক বছর প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং ধন্ধে বিদ্যালয়
টির পাঠদান কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে। প্রতিবাদে গত বছর ক্লাস বর্জন করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ-মিছিল করতে দেখা গেছে।

খাগড়াবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খুরশিদ আলম অভিভাবকদের উপর দোষ চাপিয়ে বলেন, শিক্ষকরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে তবে অভিভাবকরা আন্তরিক নয়, তারা কখনো বিদ্যালয়ে আসেন না, অভিবাবক সমাবেশ দিলেও অনুপস্থিত থাকেন। এমনকি বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে রেজিষ্ট্রেশন করে কয়েক শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নিতে সুযোগ করে দেয়া হয়। তবে তিনি শিক্ষকদের মধ্যে পারস্পারিক শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধে ঘাটতীর বিষয়টি স্বীকার করেন।

খাগড়াবিল শিক্ষা উন্নয়ন কমিটির আহবায়ক ও বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ডা: মোস্তফা কামাল বিদ্যালটির ১৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা চরম হতাশা হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে এবারই প্রথম ভরাডুবি ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং ও পারস্পারিক সহযোগীতা সদ্ধাবোধ না থাকা ও অভিভাবকদের যথাযথ তৎপরতা না থাকাকে খারাপ ফলাফলের জন্যে দায়ী করেন।

রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কাজী শামীম জানান, প্রধান শিক্ষকের সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। বিদ্যালয়টিতে এবার সবচেয়ে বেশি উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে। তারপরও ফলাফলে অকৃতকার্যের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানান।

Download Photocard