আবদুল মান্নান,স্টাফ রিপোর্টার:: খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার এয়াতলং পাড়া- উত্তরডলু- হাতিমুুড়া ১০ কিলোমিটারে সড়কের শেষাংশে সড়ক উন্নয়নের(কার্পেটিং) কাজ চললেও পাহাড়ি ছড়া বা খালে খরস্রোতে ভয়াল ভাঙ্গনের আশংকা জাগিয়ে রেখেছে! প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে তিন কিলোমিটার সড়ক কার্পেটিং করছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর( এলজিইডি)।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন ছড়া বা খালের অংশ ঝুঁকি থাকলেও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না পাওয়ায় আপাতত ড্রামসেট দিয়ে ভাঙনরোধের চেষ্টা করা হবে! এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে উপজেলার ‘এয়াতলং পাড়া- উত্তর ডলু- হাতিমুড়ার’ ১০ কিলোমিটার সড়কের শেষাংশের চার কিলোমিটারের মধ্যে তিন কিলোমিটার সড়ক কার্পেটিং করার উদ্যোগ গ্রহন করে এলজিইডি।
এতে প্রায় চার কোটি টাকা বরাদ্দের উন্নয়ন কাজটিতে রিপ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছেন। কাজের শুরু অংশের ২০০-৪০০ মিটার সড়কের একপাশে জমি এবং অপর পাশে পাহাড়ি ছড়া বা খাল রয়েছে। বর্ষায় পাহাড়ি খরস্রোতে খালের অংশের কয়েক জায়গায় ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে! এতদ্বসত্ত্বেও কার্পেটিং কাজটি করছে এলজিইডি!

৩ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে সরজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে সড়কে কার্পেটিং শুরু হয়েছে। ঠিকাদারের প্রতিনিধি, এলজিইডির তদারকি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে শ্রমিকেরা কাজ করছেন। এ সময় খালের ভাঙ্গনের জায়গায় উপকারভোগী লোকজন দাঁড়িয়ে খালের ভাঙ্গন অংশ নিয়ে শংকা প্রকাশ করছেন।
এ সময় সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম ও সর্দার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, উপজেলার প্রাচীন জনপদের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি উন্নয়নে সরকারের সুনজর পড়লেও খালের ভয়াল ভাঙ্গনের নিশ্চিত ঝুঁকি রেখে সড়কটি কার্পেটিং করা সড়কের ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে! আগামী বর্ষায় পাহাড়ি খরস্রোতে সড়কের একপাশে ২/৩ জায়গায় সড়ক ভেঙে জমিতে চলে আসবে!
এ বিষয়ে এলাকাবাসী এলজিইডিকে বারবার বলা সত্ত্বেও খালের পাড়ে ঝুঁকি রেখেই কার্পেটিং করছেন! এ সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রিপ এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি রাজু আহমেদ বলেন, জমি ও খালের মাঝখান দিয়ে বহমান সড়কের ২/৩ টি জায়গায় ভাঙ্গনের ঝুঁকি রয়েছে! বরাদ্দ না থাকায় গাইড ওয়াল করা সম্ভব হয়নি।
সড়কের অস্থায়ী নিরাপত্তায় আমরা নিজ খরচে ড্রামসেট দিয়ে কিছুটা নিরাপদ করার চেষ্টা করব। নচেৎ কাজের জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঝুঁকিও থাকবে। তবে সড়কের স্থায়ী নিরাপত্তায় গাইড ওয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নিতে এলজিইডিকে অনুরোধ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান বলেন, সড়কটি পাহাড়ি ছড়া বা খালের অংশে ভাঙ্গনের ঝুঁকি রয়েছে সত্য। তবে কার্পেটিং বরাদ্দে গাইড ওয়ালের নির্মাণে অর্থ পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি এলজিইডি’র প্রধান কার্যালয়ে অবহিত করা হয়েছে। আপাতত বিকল্প উপায়ে ড্রামসেট বসিয়ে অস্থায়ী নিরাপত্তার চেষ্টা করা হবে।
স্টাফ রিপোর্টার 














