চট্টগ্রাম বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

স্পষ্ট ক্ষতচিহ্ন, স্বাভাবিক হচ্ছে সড়কে যান চলাচল

  • প্রতিবেদক
  • আপডেট : ০৯:৫১:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • ২৯ বার
৩৮

মোহাম্মদ শাহজাহান,স্টাফ রিপোর্টার:: টানা চার দিন বন্ধ থাকার পর খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-লংগদু সড়কে আবারও সব ধরনের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই ২০২৬) সকাল থেকে ছোট-বড় সব ধরনের যানবাহন চলাচল শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মধ্যে। একই সঙ্গে বৃষ্টিপাত কমে আসায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া দীঘিনালার ছোট মেরুং বাজার থেকে ইতোমধ্যে পানি নেমে গেছে। তবে বাজারসংলগ্ন নিচু এলাকার কয়েকশো বাড়িঘরে এখনও পানি জমে রয়েছে। ফলে অনেক পরিবার এখনো নিজ ঘরে ফিরতে পারেনি।

ছোট মেরুং বাজারের ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমেদ বলেন, গতকাল থেকে ধীরে ধীরে বাজারের পানি নেমে গেছে। দোকানপাট পরিষ্কারের কাজ চলছে। হঠাৎ বন্যায় অনেক ব্যবসায়ীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেকের পণ্য নষ্ট হয়ে গেছে।

মেরুং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আব্দুস সালাম জানান, বন্যার পানি কিছুটা কমায় লংগদুর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ পুনরায় চালু হয়েছে। তবে এখনও অনেক ঘরবাড়িতে পানি রয়েছে। ফলে অনেক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। পানি কমতে শুরু করলেও জেলার বিভিন্নস্থানে বন্যার ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বন্যায় অভ্যন্তরীণ ও গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অন্তত এক হাজার হেক্টর জমির আমন বীজতলা, আউশ ধানের চারা, বিভিন্ন ধরনের সবজিক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কয়েকশ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।

জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিতভাবে কাজ চলছে। বন্যাকবলিত এলাকায় খাদ্য, ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ অব্যাহত আছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ, বিজিবি, জেলা বিএনপি এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির খাগড়াছড়ি ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছে।

এর আগে শনিবার বিকেলে বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। কোনো ধরনের ঘাটতি রাখা হবে না। ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

যদিও বন্যার পানি ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে খাগড়াছড়ির দুর্গত মানুষের এখনও কয়েকদিন সময় লাগবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

Download Photocard

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

স্পষ্ট ক্ষতচিহ্ন, স্বাভাবিক হচ্ছে সড়কে যান চলাচল

আপডেট : ০৯:৫১:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
৩৮

মোহাম্মদ শাহজাহান,স্টাফ রিপোর্টার:: টানা চার দিন বন্ধ থাকার পর খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-লংগদু সড়কে আবারও সব ধরনের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই ২০২৬) সকাল থেকে ছোট-বড় সব ধরনের যানবাহন চলাচল শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মধ্যে। একই সঙ্গে বৃষ্টিপাত কমে আসায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া দীঘিনালার ছোট মেরুং বাজার থেকে ইতোমধ্যে পানি নেমে গেছে। তবে বাজারসংলগ্ন নিচু এলাকার কয়েকশো বাড়িঘরে এখনও পানি জমে রয়েছে। ফলে অনেক পরিবার এখনো নিজ ঘরে ফিরতে পারেনি।

ছোট মেরুং বাজারের ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমেদ বলেন, গতকাল থেকে ধীরে ধীরে বাজারের পানি নেমে গেছে। দোকানপাট পরিষ্কারের কাজ চলছে। হঠাৎ বন্যায় অনেক ব্যবসায়ীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেকের পণ্য নষ্ট হয়ে গেছে।

মেরুং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আব্দুস সালাম জানান, বন্যার পানি কিছুটা কমায় লংগদুর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ পুনরায় চালু হয়েছে। তবে এখনও অনেক ঘরবাড়িতে পানি রয়েছে। ফলে অনেক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। পানি কমতে শুরু করলেও জেলার বিভিন্নস্থানে বন্যার ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বন্যায় অভ্যন্তরীণ ও গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অন্তত এক হাজার হেক্টর জমির আমন বীজতলা, আউশ ধানের চারা, বিভিন্ন ধরনের সবজিক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কয়েকশ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।

জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিতভাবে কাজ চলছে। বন্যাকবলিত এলাকায় খাদ্য, ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ অব্যাহত আছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ, বিজিবি, জেলা বিএনপি এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির খাগড়াছড়ি ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছে।

এর আগে শনিবার বিকেলে বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। কোনো ধরনের ঘাটতি রাখা হবে না। ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

যদিও বন্যার পানি ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে খাগড়াছড়ির দুর্গত মানুষের এখনও কয়েকদিন সময় লাগবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

Download Photocard