
শামীমা আক্তার রুমি,গুইমারা:: নান্দনিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ির গুইমারায় যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হয়েছে মহান বিজয় দিবস। বিজয়ের ভোরের প্রথম প্রহরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, ৩১ বার তোপধ্বনি, শহীদ বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, আলোচনা সভাসহ ছিলো বর্ণাঢ্য নানা আয়োজন।

শনিবার (১৬ডিসেম্বর ২০২৩) গুইমারা সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পনের মধ্য দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করে দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা সূচনা করা হয়। তোপধ্বনি পর প্রথমে উপজেলা প্রশাসনের গুইমারা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেমং মারমা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীব চৌধুরী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ম্রাসাথোয়াই মগ,গুইমারা থানার অফিসার্স ইনচার্জ আরিফুল আমিন,উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান কংজরী মারমা,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মিজ ঝর্ণা ত্রিপুরাসহ সকলস্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে শহীদ বেদিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান।

গুইমারা উপজেলা প্রশাসন,বীর মুক্তিযোদ্ধা,আওয়ামীলীগ,গুইমারা প্রেসক্লাব, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সম্মিলিত সকল প্রতিষ্ঠানের মিলন মেলায় দিবসটি পালিত হয় যথাযথ মর্যাদায়। এর আগে বিভিন্ন সংগঠন,গুইমারা প্রেসক্লাব, সরকারী-বেসরকারী,সামাজিক সংগঠনসহ রাজনৈতিক দল,এনজিও,স্কুল-কলেজ শহীদ বেদিতে ফুল নিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

সকাল সাড়ে ৮টায় গুইমারা সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন,পুলিশ,আনসার-ভিডিপি,স্কুল-কলেজ,মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে কুচকাওয়াজ ও শরীর চর্চা প্রদর্শনী করা হয়। এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক মেমং মারমা। গুইমারাবাসীর উদ্দেশ্যে বাণী প্রদান করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীব চৌধুরী। এসময় গুইমারা থানার অফিসার্স ইনচার্জ আরিফুল আমিন উপস্থিত ছিলেন।

দুপুরে গুইমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা এবং জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জন এবং বিজয় দিবসের তাৎপর্য শীর্যক আলোচনা সভা করে।
পরে বাদ জোহর,সন্ত্রাস,জঙ্গিবাদ ও মাদক বিরোধী কর্যক্রমে জনমত সৃষ্টির জন্য আলোচনা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফেরাত/বীর মুক্তিযোদ্ধা/যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং জাতির শান্তি,সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে সকল মসজিদ,মন্দির,গীর্জা,প্যাগোড়া ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হয়।

দুপুর এতিমখানা ও অনাথ আশ্রমে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, বিকালে গুইমারা সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা প্রশাসন একাদশ বনাম বীর মুক্তিযোদ্ধা একাদশের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচসহ সন্ধ্যায় গুইমারা সরকারি মডেল হাই স্কুল অডিটোরিয়ামে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।



অনলাইনের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন