???????? ????? ??????? ?????????

স্টাফ রিপাের্টার:: ১৫ ডিসেম্বর আজ। খাগড়াছড়ি হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এদিনে খাগড়াছড়ির আকাশে ওড়ানো হয় স্বাধীন দেশের পতাকা। ১০ ডিসেম্বর রাত ১০টার দিকে পানছড়ির পাক বাহিনীর ক্যাম্পে আক্রমণ করে মুক্তিযোদ্ধারা। আধাঘণ্টা গোলাগুলির পর থেমে থেমে আরো কয়েকবার গোলাগুলি চলে।
ভোরে খবর আসে পাকিস্তানিরা পালিয়েছে। পরে পাকবাহিনীর ক্যাম্প দখলে নিয়ে সেখান থেকে পানছড়ি বাজারে রওনা হয় মুক্তিযোদ্ধারা। ১১ তারিখ পানছড়ি শত্রু মুক্ত কিনা জানতে চার্জ করা হয়। নিশ্চিত হওয়া যায় পানছড়ি শত্রু মুক্ত। ১৩ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের অভিমুখে রওনা হয়। পথে ভাই-বোনছড়া এলাকায় এসে পাকিস্তানিদের অবস্থান জানতে পেরে দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ভাই-বোনছড়া বাজারের পূর্ব ও পশ্চিম দিকে দু’ভাগে মুক্তিযোদ্ধারা অবস্থান নেন।
মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান জানতে পেরে পাক সেনারা হামলা করে। কিন্তু ওই দিন ভাই-বোনছড়া হাট বাজার হওয়া স্থানীয়দের ক্ষতি হতে পারে এমন ভাবনা তারা পিছু হটে ১ কিলোমিটার দূরে অবস্থান নেয়। পরে রাত আনুমানিক দেড়টায় দুটি ভাগে ভাগ হয়ে পাকবাহিনীর ওপর হামলা শুরু করা হয়। মুক্তিবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রায় ২০ মিনিট ধরে ফায়ার চলে। তবে পাক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো ফায়ার হয়নি। সাড়ে ৫টায় খবর আসে রাতেই পাক বাহিনীর সদস্যরা পালিয়েছে। দিনটি ছিল ১৪ ডিসেম্বর।
ওইদিন দুপুরে মুক্তিযোদ্ধারা খাগড়াছড়ি শহরের উদ্দেশে রওনা হয়। পথে কুকিছড়ায় গাছবান এলাকায় ৪টার দিকে পাক/মিজুরা মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর হামলা করে। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ চলে প্রায় ৪০ মিনিট। পরে শত্রুরা ফায়ার বন্ধ করে পালিয়ে যায়। সেখান থেকে স্বনির্ভর বাজারে এসে ৪ প্লাটুন মুক্তিযোদ্ধা ৩ ভাগে ভাগ হয়ে শহরের অভিমুখে রওনা হয়। ১৪ ডিসেম্বর রাত ৩টায় খাগড়াছড়ি মহকুমা শহরে তিন দিক থেকে ৬০ শতাংশ এলাকা শত্রুমুক্ত করা হয়।
ওই দিন রাতে সতর্কতার সঙ্গে মহকুমার কেন্দ্রস্থলে প্রবেশ করতে থাকে মুক্তিযোদ্ধারা। তখন ১২ জনের একটা গ্রুপ মাইনস চার্জ করতে করতে শহরের দিকে আগায়। ১৫ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খবর আসে পাঞ্জাবিরা রাতেই খাগড়াছড়ি বাজার লুটপাট করে মহালছড়ির দিকে পালিয়ে গেছে।
অন্যদিকে মহালছড়িতে সম্মুখযুদ্ধে নিহত হন ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদের। ১৫ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় খাগড়াছড়িতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করেছিলেন তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক দোস্ত মোহাম্মদ চৌধুরী। এ সময় গ্রুপ কমান্ডার অশোক চৌধুরী বাবুল, মংসাথোয়াই চৌধুরী, মোবারক মাস্টার, জুলু মারমাসহ অনেকেই সঙ্গে ছিলেন। সেদিন থেকে খাগড়াছড়ি হানাদার মুক্ত দিবস পালিত হয়।


অনলাইনের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন