প্রতিনিধি মহালছড়ি:: উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়িতে-মহালছড়ি শিশু মঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) ২০২৫ সালের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ তিন জন শিক্ষার্থী পুরস্কার ও মহালছড়ি সেনা জোনের জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আল জাবির আসিফকে এক জমকালো সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, মহালছড়ি জোন অধিনায়ককে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে উষ্ণ সংবর্ধনা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এরপর বিদ্যালয়ের নতুন শিক্ষাবর্ষের ৬ষ্ট শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন অতিথিবৃন্দ। এরপর ২০২৫ সালের অনুষ্ঠিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের এবং তিন জন শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যে জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আল জাবির আসিফ, পিএসসি বলেন "শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। কেবল পাঠ্যবইয়ের শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। মহালছড়ি জোন সবসময় এই অঞ্চলের শিক্ষা ও উন্নয়নে পাশে থাকবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ মজুমদার-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিমল চাকমা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সভাপতি, শিশু মঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয়,বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শাহজাহান পাটোয়ারী,পরিচালক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ।
এছাড়াও বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ,সাংবাদিক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, অভিভাবক এবং ছাত্র-ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় মহালছড়ি জোনের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক সামগ্রী ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয় এবং আগামীতে বিদ্যালয়ের সাইন্স ল্যাবের ব্যাবস্থার প্রতিশ্রুতি দেন।
আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী শেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। দেশাত্মবোধক গান ও চমৎকার নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীলতা প্রদর্শন করে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জোন কমান্ডারের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরনের আয়োজন পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মনোবল বৃদ্ধি ও শিক্ষার মান উন্নয়নে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।