
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে খাগড়াছড়িতে এইচডব্লিউএফ’র নারী সমাবেশ ও স্মারকলিপি পেশ।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি:: নারীদের যৌন শোষণের দায়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে সন্তু লারমার অপসারণ দাবি তুলে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে রবিবার (৮ মার্চ ২০২৬) খাগড়াছড়িতে হিল উইমেন্স ফেডারেশন (এইচডব্লিউএফ) নারী সমাবেশ, প্রতিবাদী নৃত্য ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বরাবরে স্মারকলিপ পেশ করেছে।
স্মারকলিপিতে নারীদের যৌন শোষণের দায়ে সন্তু লারমাকে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে। খাগড়াছড়ি জেলার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এই স্মারকলিপিটি পেশ করা হয়। এতে সন্তু লারমার স্ত্রী মিসেস শিপ্রা দেওয়ান কর্তৃক ১১ অক্টোবর ২০০৫ তারিখে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) তৎকালীন সহ-সভাপতির কাছে লেখা একটি চিঠি সংযুক্ত করা হয়েছে, যেখানে সন্তু লারমার বিরুদ্ধে নারীদের যৌন শোষণের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।

স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নীতি চাকমা ও সাধারণ সম্পাদক রিতা চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের কেন্দ্রীয় সভাপতি কণিকা দেওয়ান, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সদস্য রেশমি মারমা, জনপ্রতিনিধি অংক্রই মারমা। স্মারকলিপি প্রদানকালেও তারা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে শেষে দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসন জনাব মো. আনোয়ার সাদাত স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন।
সকাল ১০:৩৫টার সময় খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা পরিষদ মাঠ থেকে মিছিল সহকারে গিয়ে চেঙ্গী স্কোয়ারে সমাবেশ আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন উপজেলা থেকে সহস্রাধিক নারী ও শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন শ্লোগান দেন ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। সমাবেশের পূর্বে বিভিন্ন উপজেলা থেকে নারী ও শিক্ষার্থীরা উপজেলা পরিষদ মাঠে এসে সমবেত হন।
পরে সমাবেশে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নীতি চাকমার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রিতা চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের সভাপতি কণিকা দেওয়ান, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সদস্য রেশমি মারমা, জনপ্রতিনিধি অংক্রই মারমা ও সুদুঅং মারমা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা রাজনৈতিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সমস্যার একমাত্র সমাধান হতে পারে রাজনৈতিকভাবে ও শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে, তার আগে নয়। এতে বক্তারা বলেন, সরকার পর্যটনের নামে উন্নয়নের কথা বলছে। কিন্তু যে পর্যটন পাহাড়িদের উচ্ছেদ করে সে ধরনের পর্যটন আমরা চাই না। একই সাথে, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে নারী-শিশুর ওপর নির্যাতন-ধর্ষণসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি বেদখল বন্ধের মাধ্যমে শান্তি ও স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানান।
বক্তারা আরো বলেন, আমরা যদি পত্র-পত্রিকা দেখি তাহলে নারী-শিশু নির্যাতন বৃদ্ধির চিত্র দেখতে পাই। কিন্তু এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার পাওয়া যায় না। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি বাংলাদেশে নিয়ম হয়ে উঠেছে। নারীদের মধ্যে একটি পক্ষ প্রতিবাদী লড়াইয়ে যুক্ত থাকলেও আরেকটি পক্ষ রয়েছেন যারা নিজেদের নানাভাবে বিকিয়ে দিচ্ছে। তিনি দালালদের কঠোরভাষায় সমালোচনা করেন এবং আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ তোলেন। তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের গণআদালতে বিচারের হুঁশিয়ারি দেন।

সমাবেশ শেষে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বরাবরে স্মরকলিপিটি পেশ করা হয়। স্মারকলিপিতে সন্তু লারমার স্ত্রী মিসেস শিপ্রা দেওয়ানের সেই চিঠির তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়, সন্তু লারমা ১৯ জানুয়ারি ২০০৪ তারিখে কল্যাণপুরের সরকারি বাসভবনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে তাঁর অফিসের এক পিয়নের স্ত্রীকে যৌন হেনস্তা করেন।
এছাড়া তিনি ১১ জুন ২০০৫ তারিখে ঢাকার বনানীস্থ আঞ্চলিক পরিষদের রেস্ট হাউসে ওয়াচিংপ্রু মারমাকে, ২৯ জুন ২০০৫ তারিখে একই গেস্ট হাউসে ইনু চাকমাকে এবং খুশি আক্তার নামের একজনকে বারবার বনানী রেস্ট হাউসে নিয়ে গিয়ে যৌন শোষণ করেন। মিসেস শিপ্রা দেওয়ান সন্তু লারমার বিরুদ্ধে যৌন শোষণের বিনিময়ে কাজের চুক্তি (কন্ট্রাক্ট) প্রদানসহ দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগও উত্থাপন করেছিলেন।

স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, তিনি গত ২৭ বছর ধরে এক নাগাড়ে আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চাকরি, কন্ট্রাক্ট, গয়না এবং বৃত্তির প্রলোভন দেখিয়ে তিনি ডজনখানেক ‘আদিবাসী’ নারীকে যৌন শোষণ করেছেন। সবাই জানলেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে পারে না। এ সময় অসংখ্য অভিযোগ তুলে ধরা হয় বক্তব্যে। হিল উইমেন্স ফেডারেশন এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রিতা চাকমা এক প্রসে বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।