গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মতবিনিময়।

আল-মামুন:: খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদকে একটি গণমুখী, জনবান্ধব, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে জানিয়ে নব নিযুক্ত চেয়ারম্যান ম্রাসাথোয়াই মারমা বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষকসহ পরিষদের আওতাধীন সকল নিয়োগে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। কোনো ধরনের তদবির, অনিয়ম বা পক্ষপাতিত্বকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। উন্নয়ন, শান্তি, সম্প্রীতি ও জনকল্যাণে আমাদের পথচলায় সহায়ক হবে।

সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে পরিষদ সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা তিনি এসব কথা বলেন। এতে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের জেলা পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ইলিয়াস মেহেদী, নবনিযুক্ত সদস্য এম এন আবছার, মোশারফ হোসেন, অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেকম মিন্টু, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাব সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য,সাধারন সম্পাদক এইচএম প্রফুল্লসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।

এ সময় সব নিযুক্ত সদস্য ক্ষেত্র মোহন ত্রিপুরা,দেব রানী চাকমা, খনি রঞ্জন ত্রিপুরা,কুহেলী দেওয়ান, তাছলিমা সিরাজ সীমা, নারায়ন ত্রিপুরা,রুমেল মারমা, রিপল চাকমা,শান্তি প্রিয় চাকমা,মংসাপ্রু চৌধুরী ও ক্যরী মগসহ জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা,গণমাধ্যম কর্মীরা অংশ নেন।

যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতেই প্রার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অসংগতি বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে আপনারা তা আমাদের অবহিত করবেন। আমরা চাই, একজন চাকরিপ্রার্থী যেন নিয়োগের আবেদন করার পর থেকেই বিশ্বাস করতে পারেন যে, স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তার মূল্যায়ন হবে।

তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিংপ্রু জেরী এবং প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের দিকনির্দেশনা, পরামর্শ ও সহযোগিতাকেও আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করব। পার্বত্য চট্টগ্রামের সামগ্রিক উন্নয়ন, শান্তি, সম্প্রীতি ও জনকল্যাণে মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জনমুখী করতে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হবে। খাগড়াছড়ি জেলার প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার আয়োজিত সভায় তিনি আরো বলেন, খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞার অভিজ্ঞতা, পরামর্শ ও সহযোগিতাকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করব। তিনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার অধিকারী এবং খাগড়াছড়ির মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

খাগড়াছড়ির মানুষের প্রত্যাশা পূরণে আমরা আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারব। সংসদ সদস্যের সঙ্গে সমন্বয় রেখে জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। একই সঙ্গে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা নিয়ে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে চাই।

জনগণের কল্যাণই হবে প্রধান অগ্রাধিকার। জেলা পরিষদ কোনো নির্দিষ্ট দল, গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠান নয়। এই পরিষদ খাগড়াছড়ির সব মানুষের। দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি, স্থানীয় অবকাঠামো, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, সংস্কৃতি ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে আমরা গুরুত্ব দিতে চাই।

খাগড়াছড়ি একটি বৈচিত্র্যময় জেলা। এখানে বিভিন্ন জাতিসত্তা, ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মের মানুষের বসবাস। এই বৈচিত্র্য আমাদের সম্পদ। তাই উন্নয়নের পাশাপাশি সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সহাবস্থান আরও সুদৃঢ় করা আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। কোনো জনগোষ্ঠী যেন উন্নয়ন ও সুযোগ-সুবিধা থেকে পিছিয়ে না থাকে, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করা হবে।

পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম অঙ্গীকার। জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় হবে। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজন,অগ্রাধিকার এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও তিনি এসময় জানান। গণমাধ্যম গণতান্ত্রিক সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জনগণের কথা আমাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং পরিষদের কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত জনগণের কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রে আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

যে কোনো সমস্যা, অনিয়ম, জনদুর্ভোগ বা দুর্বলতা থাকলে তা দায়িত্বশীলভাবে আমাদের জানাবেন। গঠনমূলক সমালোচনাকে আমরা স্বাগত জানাই এবং তা ভুল সংশোধনের সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করি। খাগড়াছড়ির উন্নয়ন, পর্যটন, কৃষি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং বিভিন্ন জাতিসত্তার ঐতিহ্য ও জীবনধারা জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে কোনো তথ্য প্রকাশের আগে এর সত্যতা যাচাই এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিষয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান বক্তারা। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। পরিষদ ও গণমাধ্যমের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হোক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। গণমাধ্যমের জন্য আমাদের দরজা সবসময় খোলা থাকবে। এতে শান্তিপূর্ণ, সম্প্রীতিপূর্ণ, উন্নত ও সম্ভাবনাময় খাগড়াছড়ি এবং খাগড়াছড়ির উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে যে যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন সকলের সহায়তা কামনা করেন তিনি।