চট্টগ্রাম শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথে ১০০ নারী

  • প্রতিবেদক
  • আপডেট : ১১:২৬:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ৬ বার
৮

স্টাফ রিপোর্টার:: স্বামীকে হারানোর পর দুই সন্তানকে নিয়ে একাই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন রুমা। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে গেলেও অর্থাভাবে এখন ছেলের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।

তিন মাসের সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে একটি সেলাই মেশিন পেয়ে রুমার মনে জেগেছে নতুন আশার আলো। এবার নিজের উপার্জনে সংসারের অভাব দূর করার পাশাপাশি সন্তানদের ভবিষ্যৎও গড়ে তুলতে চান তিনি।

রুমার মতো জীবনসংগ্রামে লিপ্ত আরও ৯৯ নারী পেয়েছেন স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ। ময়মনসিংহের নান্দাইল ও গৌরীপুর এবং নেত্রকোনার বারহাট্টা, সদর ও দুর্গাপুর উপজেলার ২০ জন করে মোট ১০০ নারীকে সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে একটি করে সেলাই মেশিন উপহার দিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির লক্ষ্য, নারীদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তাঁদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পারিবারিক আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা।

সম্প্রতি এ কর্মসূচির সর্বশেষ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌর শহরের কমরেড মণি সিংহ স্মৃতি জাদুঘরের হলরুমে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান ইমদাদুল হক মিলন।

উপজেলা বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি মো. জামাল তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের উপদেষ্টা মো. মাসুম বিল্লাহ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাদাত, দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ, প্রেস ক্লাবের সভাপতি তোবারক হোসেন, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলকাছ উদ্দিন মীর, উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম, বসুন্ধরা শুভসংঘের সিনিয়র উপদেষ্টা এস এম রফিকুল ইসলাম রফিক এবং নির্মলেন্দু সরকার বাবুল প্রমুখ। পাঁচটি উপজেলার প্রতিটি আয়োজনেই স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ইমদাদুল হক মিলন বলেন, অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে বসুন্ধরা গ্রুপ সেলাই মেশিন উপহার দিচ্ছে। এর মাধ্যমে তাঁরা নিজেরা আয় করতে পারবেন, সংসারে সচ্ছলতা আনতে পারবেন এবং নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করতে পারবেন।

তিনি বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপের কাছ থেকে সেলাই মেশিন পেয়ে অনেক নারী নিজেদের ভাগ্য বদলেছেন। কেউ একটি মেশিন দিয়ে কাজ শুরু করে পরবর্তী সময়ে আরও ১০টি মেশিন কিনেছেন। তাঁরা সন্তানদের স্কুলে পড়িয়েছেন এবং নিজেরাই উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। কেউ কেউ নিজের কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি অন্যদের কাজের সুযোগও করে দিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাদাত বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। শুধু সেলাই মেশিন বিতরণের মধ্যেই কর্মসূচিটি সীমাবদ্ধ নয়; তিন মাসের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের দক্ষ করে তোলার পর তাঁদের হাতে কাজের উপকরণ তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে তাঁরা নিজেরা আয় করার পাশাপাশি পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও অবদান রাখতে পারবেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, উপহার পাওয়া সেলাই মেশিনগুলো কাজে লাগিয়ে নারীরা নিজেদের জীবনমান উন্নত করবেন এবং তাঁদের সাফল্য অন্য নারীদেরও স্বাবলম্বী হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে।

সেলাই মেশিন হাতে পাওয়া এই ১০০ নারীর কাছে উপহারটি কেবল একটি কর্মসংস্থানের উপকরণ নয়, বরং নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন। প্রশিক্ষণে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তাঁরা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন, পরিবারের আর্থিক সংকট মোকাবিলা এবং আত্মনির্ভরশীল জীবন গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

Download Photocard

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Al- Mamun

রামগড়ে অনুদান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের শিশু ও গো-খাদ্য বিতরণ

বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথে ১০০ নারী

আপডেট : ১১:২৬:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
৮

স্টাফ রিপোর্টার:: স্বামীকে হারানোর পর দুই সন্তানকে নিয়ে একাই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন রুমা। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে গেলেও অর্থাভাবে এখন ছেলের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।

তিন মাসের সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে একটি সেলাই মেশিন পেয়ে রুমার মনে জেগেছে নতুন আশার আলো। এবার নিজের উপার্জনে সংসারের অভাব দূর করার পাশাপাশি সন্তানদের ভবিষ্যৎও গড়ে তুলতে চান তিনি।

রুমার মতো জীবনসংগ্রামে লিপ্ত আরও ৯৯ নারী পেয়েছেন স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ। ময়মনসিংহের নান্দাইল ও গৌরীপুর এবং নেত্রকোনার বারহাট্টা, সদর ও দুর্গাপুর উপজেলার ২০ জন করে মোট ১০০ নারীকে সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে একটি করে সেলাই মেশিন উপহার দিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির লক্ষ্য, নারীদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তাঁদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পারিবারিক আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা।

সম্প্রতি এ কর্মসূচির সর্বশেষ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌর শহরের কমরেড মণি সিংহ স্মৃতি জাদুঘরের হলরুমে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান ইমদাদুল হক মিলন।

উপজেলা বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি মো. জামাল তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের উপদেষ্টা মো. মাসুম বিল্লাহ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাদাত, দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ, প্রেস ক্লাবের সভাপতি তোবারক হোসেন, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলকাছ উদ্দিন মীর, উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম, বসুন্ধরা শুভসংঘের সিনিয়র উপদেষ্টা এস এম রফিকুল ইসলাম রফিক এবং নির্মলেন্দু সরকার বাবুল প্রমুখ। পাঁচটি উপজেলার প্রতিটি আয়োজনেই স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ইমদাদুল হক মিলন বলেন, অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে বসুন্ধরা গ্রুপ সেলাই মেশিন উপহার দিচ্ছে। এর মাধ্যমে তাঁরা নিজেরা আয় করতে পারবেন, সংসারে সচ্ছলতা আনতে পারবেন এবং নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করতে পারবেন।

তিনি বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপের কাছ থেকে সেলাই মেশিন পেয়ে অনেক নারী নিজেদের ভাগ্য বদলেছেন। কেউ একটি মেশিন দিয়ে কাজ শুরু করে পরবর্তী সময়ে আরও ১০টি মেশিন কিনেছেন। তাঁরা সন্তানদের স্কুলে পড়িয়েছেন এবং নিজেরাই উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। কেউ কেউ নিজের কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি অন্যদের কাজের সুযোগও করে দিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাদাত বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। শুধু সেলাই মেশিন বিতরণের মধ্যেই কর্মসূচিটি সীমাবদ্ধ নয়; তিন মাসের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের দক্ষ করে তোলার পর তাঁদের হাতে কাজের উপকরণ তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে তাঁরা নিজেরা আয় করার পাশাপাশি পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও অবদান রাখতে পারবেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, উপহার পাওয়া সেলাই মেশিনগুলো কাজে লাগিয়ে নারীরা নিজেদের জীবনমান উন্নত করবেন এবং তাঁদের সাফল্য অন্য নারীদেরও স্বাবলম্বী হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে।

সেলাই মেশিন হাতে পাওয়া এই ১০০ নারীর কাছে উপহারটি কেবল একটি কর্মসংস্থানের উপকরণ নয়, বরং নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন। প্রশিক্ষণে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তাঁরা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন, পরিবারের আর্থিক সংকট মোকাবিলা এবং আত্মনির্ভরশীল জীবন গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

Download Photocard